মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

অবরোধে সাজেকে নষ্ট হচ্ছে ফল-ফসল, ক্ষতির মুখে কৃষকরা

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

অবরোধে সাজেকে নষ্ট হচ্ছে ফল-ফসল, ক্ষতির মুখে কৃষকরা

রাঙামাটির সাজেকে ইউপিডিএফ সমর্থিত দুই সংগঠনের ডাকা চতুর্থ দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের দ্বিতীয় দিন চলছে। টানা অবরোধে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় উৎপাদিত ফল গাছে ও ঘরে পেকে নষ্ট হচ্ছে কৃষিপণ্য। সময়মতো এসব পণ্য বিক্রি করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পাহাড়ের কৃষকরা। অন্যদিকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন অবরোধকারীরা। এর আগে টানা ১০ দিনের অবরোধ শেষে রবিবার একদিনের জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম, ভয়ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এসব পরিস্থিতির অবসান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ২২ অক্টোবরের ঘটনার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাইরে থেকে খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছাতে না পারায় খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পারায় সেগুলো পচে নষ্ট হচ্ছে।

এ্যাগোজ্জাছড়ি এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ চাকমা বলেন, “কলাগুলো গাছে পেকে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাজারে তুলতে না পারলে সবগুলো পচে যাবে। আমাদের পাড়ার সবারই একই সমস্যা। গত রবিবার একদিনের জন্য অবরোধ শিথিলের খবর শুনে কলার ছড়া কেটে রাস্তার ধারে রেখেছিলাম। কিন্তু অন্য একটি সংগঠনের অবরোধের কারণে সেসব কলা আর বাজারে নিতে পারিনি। অবরোধ না উঠলে এসব কলা এখানেই পচে যাবে। আমাদের পুরো বছর অনাহারে থাকতে হবে।”

সাজেকের ১৬৯ নম্বর শিয়ালদাই মৌজার হেডম্যান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জৌপেইথাং ত্রিপুরা জানান, তার ওয়ার্ডের ২২টি পাড়ার অধিকাংশ বাসিন্দা জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধের কারণে তারা মাচালং বাজারে যেতে পারছেন না। ফলে কলা, পেঁপে, আখ, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া ও কচুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। অনেক কৃষিপণ্য পেকে নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে নাপ্পি, শুঁটকি, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ গৃহস্থালির পণ্যেরও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অবরোধ ও সংঘাতের কারণে সাজেকের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। ঘরে খাবার ফুরিয়ে আসছে। উৎপাদিত ফলমূল পরিবহন ও বাজারজাত করতে না পারায় কৃষকদের লোকসান বাড়ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “সাজেকে দুটি সংগঠন অবরোধ পালন করছে। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন সর্বাত্মক সতর্ক রয়েছে।”

ইউডি/কেএস
 

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!