মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

মিরপুরে দুটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুর

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

মিরপুরে দুটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুর

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে দুটি পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মিরপুর-২ নম্বরের বড়বাগ এলাকায় সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেড ও দেশওয়ান অ্যাপারেলস নামের দুটি কারখানায় এ ভাঙচুর চালানো হয়।

কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এক থেকে দেড় শতাধিক ব্যক্তি কারখানায় প্রবেশ করে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এতে কারখানার অভ্যর্থনা কক্ষের চেয়ার-টেবিল, সিসিটিভি মনিটর, কাচ ও শ্রমিকদের ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি কারখানার চারতলাতেও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় কাচের আঘাতে এক নিরাপত্তাকর্মীর হাত কেটে যায়।

সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, হঠাৎ করেই বিপুলসংখ্যক লোক কারখানায় এসে হামলা চালায়। তারা বিভিন্ন কাচ ও যন্ত্রপাতি ভেঙে ফেলে।

কারখানাটির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় কারখানার শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। হামলাকারীরা বাইরে থেকে এসে ভাঙচুর শুরু করলে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাদের কারখানা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তার ধারণা, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে কারখানা চালু রাখাকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।

অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ ফ্যাশনে হামলার আগে পাশের দেশওয়ান অ্যাপারেলস কারখানার সামনেও বিক্ষুব্ধ একটি দল অবস্থান নেয়। সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কারখানাটির সামনের কাচ ভেঙে ফেলা হয়।

দেশওয়ান অ্যাপারেলসের মানবসম্পদ কর্মকর্তা সামিরুদ্দীন নওশাদ জানান, তাদের শ্রমিকরা হামলাকারীদের বাধা দিলে তারা সেখান থেকে সরে গিয়ে পাশের সিরাজগঞ্জ ফ্যাশনে হামলা চালায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানাটিতে আবারও কাজ শুরু হয়। ঘটনার বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই কারখানাগুলোতে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, দুপুরে মিরপুর গোলচত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় সড়ক অবরোধ, যানবাহন ও কারখানায় ভাঙচুরের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

অন্যদিকে, বিকেলে মিরপুর সেকশন-৭-এর শিল্প এলাকায় কয়েকটি কারখানার ফটক বন্ধ দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এসে হাজিরা দেওয়ার পর কাজ ছেড়ে বের হয়ে যান। ফলে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

 

এম. হোসেন

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!