মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

গুজব ও বিশৃঙ্খলার ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না: মীর হেলাল

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

গুজব ও বিশৃঙ্খলার ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না: মীর হেলাল

মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও বিশৃঙ্খলার ফাঁদে পা না দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। কোনো বিষয়ে সন্দেহ বা অসংগতি দেখা দিলে তা অবহেলা না করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পার্বত্য জেলা পরিষদ কিংবা বিএনপির স্থানীয় নেতাদের অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই অনুরোধ জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মীর হেলাল বলেন, সব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। কিছু প্রশাসনিক সমস্যা রয়েছে, আর রাজনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধানে আলোচনা চলছে। আশা করছি শিগগিরই সব সমস্যার সমাধান হবে। সমস্যা যেখানে রয়েছে, সেখানে সমাধানও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘রংধনু জাতি’ গঠনের ভাবনার প্রতিফলন পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলাতেই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ যাতে পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে জন্য বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবার শারদীয় দুর্গোৎসবে সরকারি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া কঠিন চীবর দান, প্রবারণা পূর্ণিমাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্যও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যা প্রতিশ্রুতি দেন বাস্তবে তার চেয়েও বেশি অর্জন করে দেখান। তার আদর্শ ও দর্শন অনুসরণ করে একটি স্বনির্ভর ও ‘রংধনু জাতি’ গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

মীর হেলাল বলেন, রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রং যেমন একত্র হয়ে বর্ণিল সৌন্দর্য সৃষ্টি করে, তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংধনু জাতি গঠনের ভাবনার মূল লক্ষ্য হলো দেশের সব নাগরিকের সমউন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করা। এবারের শারদীয় দুর্গাপূজাতেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত, পিএসসি, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভা শেষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে জেলার ৪৭টি পূজামণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের হাতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকার চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি রাঙামাটির বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

ইউডি/রেজা

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!