মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

শরতের নীলাকাশে উদ্ভাসিত মোহনীয় কাঞ্চনজঙ্ঘা

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৮:২১ এএম

শরতের নীলাকাশে উদ্ভাসিত মোহনীয় কাঞ্চনজঙ্ঘা

শরতের স্বচ্ছ নীলাকাশে শুভ্র তুষারের চাদর জড়িয়ে আবারও রূপের ডালি নিয়ে হাজির হয়েছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আকাশে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তুষারশুভ্র এই পর্বতচূড়া।

পঞ্চগড় জেলা শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদী কিংবা তেঁতুলিয়ার সীমান্তঘেঁষা মহানন্দা নদের পাড়ে দাঁড়িয়ে খালি চোখেই দেখা মিলছে পিরামিড আকৃতির মোহনীয় কাঞ্চনজঙ্ঘার। আকাশ পুরোপুরি পরিষ্কার থাকায় গত দুই দিন ধরে এর দেখা পাওয়া যাচ্ছে।

এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য সরাসরি উপভোগ করতে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা তেঁতুলিয়ায় ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।

সুদীর্ঘকাল ধরে পঞ্চগড়ের মানুষ সকালে এক কাপ চায়ের উষ্ণতায় চুমুক দিতে দিতে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ উপভোগ করে আসছেন। সাধারণত শরৎ, হেমন্ত আর শীতকালের সকাল কিংবা বিকালে দেখা মেলে এই শৃঙ্গের। তবে রোদের তীব্রতা ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বারবার রং বদলায় রূপসী কাঞ্চনজঙ্ঘা। কখনো উজ্জ্বল সাদা, কখনো লালচে-গোলাপি, আবার কখনো বা মিষ্টি কমলা আভায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে উত্তরের আকাশ।

এদিকে মেঘের সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘার লুকোচুরিও দারুণ উপভোগ্য। ভোর থেকে নিজেকে মেলে ধরার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ মেঘের আড়ালে হারিয়ে যায় শৃঙ্গটি। আবার বাতাস এসে মেঘ সরিয়ে দিলে স্বমহিমায় জেগে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘা। তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাকবাংলো এলাকা, পিকনিক কর্নার, মহানন্দা, ভেরসা, করতোয়া ও ডাহুক নদীর পাড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ সবচেয়ে চমৎকারভাবে দেখা যায়।

অন্যদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্রতার পাশাপাশি পঞ্চগড়ে এখন শুরু হয়েছে আগাম শীতের আমেজও। মাঠজুড়ে ধানের সদ্য ফোটা শীষ আর ঘাসের ডগায় জমছে ভোরের শিশিরবিন্দু। ভোরবেলায় হালকা কুয়াশা আর হিমালয় থেকে নেমে আসা হিমেল বাতাস পুরো পঞ্চগড়জুড়ে এক মনোরম ও আবেশিত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, প্রতি বছরই তেঁতুলিয়া থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় এবং এ দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু পর্যটক ছুটে আসেন। বিশেষ করে তেঁতুলিয়ার পিকনিক কর্নারে দাঁড়িয়ে বেশিরভাগ পর্যটক এই দৃশ্য উপভোগ করেন। তাই পর্যটকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে উপজেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পিকনিক কর্নারকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার এবং মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা হচ্ছে।

ইউডি/কেএস

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!