মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় কুকুরের কামড়ে আহত ৪৫, হাসপাতালে টিকা নিলেন ২৫ জন

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১২:০১ এএম

কুষ্টিয়ায় কুকুরের কামড়ে আহত ৪৫, হাসপাতালে টিকা নিলেন ২৫ জন

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত প্রায় ৪৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমারখালী শহরের হলবাজার, আমতলা, ইন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় লোকজন, হাসপাতাল ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনরা জানান, সন্ধ্যা থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পথচারীদের কামড় দেয় একটি পাগলা কুকুর। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যায় হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে, কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মানুষকে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রত্যয় বিশ্বাস জানান, ঘটনার খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হচ্ছে। কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। অন্য আহতরা হাসপাতালে এলে তাদেরও প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসা দেওয়া হবে।

আহত রোকন নামের এক ব্যক্তি বলেন, শহরের হলবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। পেছন থেকে একটি পাগলা কুকুর হাঁটুতে কামড় দিয়ে দৌড়ে চলে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ বলেন, সন্ধ্যায় হাসপাতালে এসে দেখি বিভিন্ন জায়গা থেকে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে রোগীরা আসছেন। দ্রুত কুকুরটি শনাক্ত করা না গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কুমারখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপর্না লতিফ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি প্রায় ৪৫ জনের মতো পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে ২৫ জন কুকুরের কামড়ে আহত রোগীকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। রোগীর চাপ প্রচুর। রাতের ভেতর হয়তো আরও রোগীর চাপ হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো কমতি নেই। কুকুরের কামড়ে যে আহত হয়ে আসবেন তিনিই ভ্যাকসিন পাবেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাভিদ সারওয়ার বলেন, কুকুরের কামড়ে আসলে কতজন আহত হয়েছেন এটা বলা মুশকিল। খবর শুনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসার জন্য বলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিয়েছেন। যে–কোনোভাবেই কুকুরটিকে আটকানোর জন্য প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। কুকুরটি আটক করতে প্রশাসন কাজ করছে।

ইউডি/রেজা

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!