প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ও লোহাগড়া ইউনিয়নে মধুমতি নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শত শত মানুষ। গত দুই সপ্তাহে মধুমতি নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
দুটি ইউনিয়নের মধুমতি নদীরপাড়ের প্রায় ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ২৫০ একর ফসলি জমি, দুই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মধুমতি নদীতে চলে গেছে। তবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আরো প্রায় ২৫০টি পরিবার।
স্থানীয়দের দাবি, এক সময় এসব এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ছিল। মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এসব পরিবারের অনেকের ঘরবাড়ি, বাপ-দাদার কবর ও ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নিঃস্ব হয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা এবছর আরো বেড়েছে। মধুমতি নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনকে দুষছেন। তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিন দেখা গেছে, মধুমতি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের ফায়েক মোল্যা, ছত্তার মোল্যা, মিন্টু মোল্যা, ইসলাম ফকির, আলিম মোল্যা, আহাদ মোল্যা, নজরুল শেখ, আমিনুর আলী, হাই মোল্যা, রসুল মোল্যা এবং কোটাকোল ইউনিয়নে রায়পাশা গ্রামের মির্জা খাঁ, রেজন খাঁ, রহিমন বেগম, খলিল কাজী, শাহিন শিকদার, আব্বাস আলী, আকরাম শেখ, জাফর খাঁ ও মান্নান মোল্যাসহ আরো অনেক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের মিন্টু মোল্যা বলেন, “রাতের বেলার ভাঙনে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন কিছুই দেখা যায় না। কোথায় যাবো, কি করবো, কিছুই বুঝে উঠতে পারিনা। আমরা গরীব মানুষ, টাকা পয়সাও নেই যে, অন্য জায়গায় সরে গিয়ে ঘর তুলবো। আমাদের খোঁজখবর কেউ রাখে না।”
কোটাকোল ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের রহিমন বেগম বলেন, “আমাদের কয়েক বিঘা জমি মধুমতি নদীগর্ভে চলে গেছে। আগে দুবার বাড়ি ভাঙিছে। কষ্ট করে নতুন বাড়ি করিছি। নতুন বাড়িও ভাঙার মুখি পড়িছে।” তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইজারাকৃত বালুমহাল বন্দোবস্তের বাইরে কোনো ইজারাদার বালু উত্তোলন করলে তার ইজারা বাতিলর করা হবে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলন করার কারণে নদীপাড়ের লোকজনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। প্রকল্পের বাইরে আমরা কাজ করতে পারি না।
ইউডি/কেএস


