মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

খুলনায় আজমুল হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

খুলনায় আজমুল হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

খুলনায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোনাডাঙ্গায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও কেসিসি প্রশাসকের আশ্বাসের ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ স্থগিত করা হয়। এর ফলে দুপুরের পর থেকে এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা রাস্তার মাঝখানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন এবং এতে শিক্ষকরাও একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারের সময়সীমা বেঁধে দেন এবং অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

অবরোধ চলাকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুর ১টার পর কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক প্লেট ভাতের সামান্য অভিযোগ তুলে একজন ছাত্রকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং মেস-জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার ৬০ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তুচ্ছ ঘটনায় বিচারবহির্ভূতভাবে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তারা অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল বলেন, ঘটনা অনেকটা খোলাসা হয়ে গেছে। তাকে ভাত চুরির অভিযোগে, মিথ্যা ও তুচ্ছ অভিযোগে বেধড়ক প্রহার করা হয়। এরপর তাকে ছাদে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে এটাই বাস্তবতা। এখানে যারা সংশ্লিষ্ট, এটি একজনের কাজ নয়। বহু শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে দলগতভাবে তাকে মারা হয়েছে। আমরা তার কিছু চুল পড়ে থাকতে দেখেছি। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও দেখেছি। খোলা চোখে যা দেখেছি, তাতে তাকে বেধড়ক প্রহার করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। এই অমানবিক নির্যাতন ও ছাত্র হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার কার্যকর করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

পুলিশ কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ খালেদ জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের একাধিক অভিযান চলছে এবং খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়াও আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতে তদন্তের অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। 

পুলিশের এই সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি মেসে ভাত খাওয়ার অপরাধে আজমুলকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তার বাবার কাছে ফোনে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই দিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এক প্রতিবাদ সমাবেশে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। 

ইউডি/রেজা

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!