melongazi
প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৮:১০ এএম
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ০৮:১০
মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের বড় খড়ী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মহাইমিন আলম মাশরুম চাষের মাধ্যমে শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, বদলে দিচ্ছেন এলাকার অনেক দরিদ্র নারীর জীবনও। তার উদ্যোগে বর্তমানে এলাকার হতদরিদ্র ও স্বল্প আয়ের অনেক নারী মাশরুম চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে অল্প পুঁজি দিয়ে নিজের বাড়িতে মাশরুম চাষ শুরু করেন মহাইমিন। শুরুতে ছোট পরিসরে উৎপাদন করলেও ধীরে ধীরে তিনি এটিকে বড় পরিসরে নিয়ে যান এবং এলাকায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেন।
বর্তমানে তার মাশরুম সেন্টারের সাথে যুক্ত হয়ে বড় খড়ি গ্রামসহ আশপাশের এলাকার অনেক নারী ঘরে বসেই মাশরুম চাষ করছেন। তারা উৎপাদিত মাশরুম মহাইমিন আলমের সেন্টারে নিয়ে এসে বিক্রি করেন। এতে একদিকে নারীরা সহজে বিক্রি করতে পাচ্ছেন, অন্যদিকে পরিবারের আর্থিক অবস্থাও পরিবর্তন হচ্ছে।

মাশরুম বিক্রি করতে আসা নাসিমা খাতুন বলেন, আগে আমি পরিবারের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু এখন নিজেই মাশরুম চাষ করে মাসে কয়েক হাজার টাকা আয় করতে পারছি। এতে সংসারের খরচ চালাতে অনেকটাই সহায়তা হচ্ছে।
রেনুকা বিশ্বাস বলেন, “মহাইমিন ভাই আমাদের মাশরুম চাষ শিখিয়েছেন এবং উৎপাদিত মাশরুম কিনে নেন। এতে আমি ঘরে বসেই আয় করতে পারছি।”
প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে এলাকার নারীরা তাদের উৎপাদিত মাশরুম নিয়ে মহাইমিনের মাশরুম সেন্টারের সামনে এসে জড়ো হন এবং সেখানে মাশরুম বিক্রি করেন। অনেকেই সেখানে এসে মাশরুমের সাথে ছবি তুলেন এবং নিজেদের সাফল্যের গল্প শেয়ার করেন।
তরুণ উদ্যোক্তা মহাইমিন আলম বলেন, “আমার লক্ষ্য শুধু নিজের ব্যবসা বড় করা নয়, বরং এলাকার বেকার ও দরিদ্র মানুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে নারীরা যদি ঘরে বসেই আয় করতে পারে, তাহলে পুরো পরিবারের জীবনমান উন্নত হয়।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে তিনি একটি মাশরুম প্রশিক্ষণ ও সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চান, যেখানে আরও বেশি নারী ও তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, মহাইমিন আলমের এই উদ্যোগ শুধু একটি ব্যবসা নয়, বরং এটি এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তার হাত ধরে মাশরুম চাষের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতি।
ইউডি/রেজা