মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

"আব্বুকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম, তবুও তারা মেরে ফেলেছে‘‍‍` কান্নাভেজায় শিশু সাদিয়ার

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

শিশু সাদিয়া

শাদ এবং শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলার অভিযুক্ত মাজহারুলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।কুমিল্লার দেবিদ্বারে দিনমজুর শফিকুল ইসলাম হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তার ৯ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার। বাবাকে চোখের সামনে মারধর করতে দেখে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেও শেষ পর্যন্ত বাবাকে বাঁচাতে পারেনি সে। এখন বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে ছোট্ট শিশুটি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাদিয়া বলে, ‘নিশাদ ও লিমন ঘর থেকে আমার আব্বুকে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে। ওইদিন কোনো ঝগড়া ছিল না। আমি ও আমার ছোট ভাই সামিউল জানালা দিয়ে দেখছিলাম। আব্বুকে মারতে নিষেধ করেছিলাম। আমার আব্বুকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম, তবুও তারা আব্বুকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার আব্বুর হত্যাকারীদের বিচার চাই, তাঁদের ফাঁসি চাই।’

শিশু সাদিয়ার এই কান্নাভেজা কথায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নিহত শফিকুলের পরিবার এখন স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা ও বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে।শফিকুল ইসলাম হত্যার বিচার এবং পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন দেবিদ্বারের স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় দেবিদ্বার নিউমার্কেটের স্বাধীনতা স্তম্ভের সামনে ভূমিহীন সংগঠন ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বেলা ১১টায় দেবিদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা স্তম্ভের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।

নিহত শফিকুলের ১৭ বছর বয়সী ছেলে ইমন আহমেদ অভিযোগ করে জানায়, বাবার হত্যার বিচার চাইতে থানায় গেলে প্রথমে পুলিশ তাদের সাক্ষী নিয়ে আসতে বলে। পরে মামলা গ্রহণ করা হলেও মামলার দুই নম্বর আসামি নিশাদকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ তার। ইমনের দাবি, অভিযুক্ত প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় তাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

শফিকুলের স্ত্রী নার্গিস আক্তারও স্বামীর হত্যার বিচার চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বামীর জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেও তাকে রক্ষা করতে পারেননি। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর দেবিদ্বার উপজেলার বারুর গ্রামে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে শফিকুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, লিমন, তার ভাই নজরুল ইসলাম এবং নজরুলের ছেলে নিশাদ এ ঘটনায় জড়িত। মামলার পর পুলিশ লিমন ও নজরুলকে গ্রেপ্তার করে। তবে নিশাদ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

এদিকে, গত ৫ অক্টোবর দেবিদ্বারের আরেকটি গ্রামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে মাজহারুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্তকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানানো হয়েছে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ খেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পরেশ কর বলেন, দেবিদ্বারে হত্যা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মতো অপরাধের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ভূমিহীন নেতা আব্দুল ওয়াদুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ভূমিহীন নেতা লিল মিয়া, তজু মিয়া, রমিজ উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামির মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

এম.হোসাইন

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!