প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১২:৪৯ এএম
পটুয়াখালীর বাউফলে ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়ে বিতরণ করা বনরুটির ভেতর ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর রুটির ভেতর ব্লেডটি পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে তার পরিবার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী সন্ধানী শীল (৮) বাউফল দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা মৃত স্বপন চন্দ্রশীল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার মা কলি রানী বাউফল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার পরিচালনা করেন।
পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় থেকে সন্ধানীকে একটি বনরুটি দেওয়া হয়। সে রুটিটি না খেয়ে বাড়িতে রেখে দেয়। পরে সন্ধ্যায় তার মা রুটিটি ভেঙে দেখতে গেলে ভেতরে পুরোনো ও ভাঙা একটি ব্লেড দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবহিত করা হয়।
শিক্ষার্থী সন্ধানী শীলের দাবি, রুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়ার বিষয়টি জানানোর পর উল্টো তার বিরুদ্ধেই ব্লেডটি রুটির মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সন্ধানীর মা কলি রানী বলেন, “রুটি ভেঙে দেখি, এর ভেতরে পুরোনো ও ভাঙা একটি ব্লেড রয়েছে। পরে দোকানের ক্রেতা ও স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি দেখিয়েছি। শিক্ষকদেরও জানিয়েছি। খাবারের মধ্যে এ ধরনের বস্তু পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সন্ধানী খুব চালাক। সে নিজেই রুটির ভেতরে ব্লেড ভরে এমন কথা বলছে।”
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় রুটির ভেতরে ব্লেড কীভাবে এলো, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিতরণ করা খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ইউডি/রেজা/রুবেল


