মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

সমালোচনার মুখে নতুন সিদ্ধান্ত, মাকে সঙ্গে রাখতে রাজি সাগর

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০১:১০ পিএম

সমালোচনার মুখে নতুন সিদ্ধান্ত, মাকে সঙ্গে রাখতে রাজি সাগর

অবশেষে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের হস্তক্ষেপে মাকে নিজের কাছ রাখতে রাজি হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন। পাশাপাশি নিজের ভুল স্বীকার করে মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। হাসি ফুটেছে মা-ছেলের মুখে।

সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধা মা মুন্নি খাতুনকে (৫০) নিজের সঙ্গে রেখে ভরণপোষণ করতে রাজি ছিলেন না সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন। ছেলের কাছ থেকে ভরণপোষণ ও আশ্রয় পাওয়ার আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তার অভিযোগের স্থায়ী সুরাহা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে জীবনের শেষ সময়ে ছেলের সঙ্গে থাকতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মুন্নি খাতুন।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মায়ের করা অভিযোগের শুনানি হয়। ইউএনও সেলিম আহমেদ শুনানি করেন। এ সময় ইউএনও সেলিম আহমেদ সাগরকে তার মাকে নিজের সঙ্গে রেখে দেখাশোনা করার বিষয়ে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন। একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের শেষ বয়সের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে মানবিকভাবে সমস্যাটি সমাধান করার জন্যও ছেলে সাগরকে অনুরোধ করেন ইউএনও।

তবে, মাকে নিজের সঙ্গে না রাখার বিষয়ে অনড় থাকেন সাগর। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওকে বলেন, “মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।”

ইউএনও কার্যালয়ে হাওয়া শুনানির একটি ভিডিও গত ৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। ঘটনাটি নজড়ে আসে পাবনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাঁথিয়া থানার আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের।

আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে সাঁথিয়া থানার ওসিকে অভিযুক্ত ছেলে ও ভুক্তভোগী মা কে নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে গাড়িতে করে মা ও ছেলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক মা ও ছেলের কথা শুনে তাদের মধ্যে যে সমস্যাটা ছিল সেটা সমাধান করে দেন। অবশেষে বিচারকের মধ্যস্থতায় ছেলে সাগর তার মাকে ভরণপোষণ দিতে রাজি হন। সেইসঙ্গে তিনি ভুল বুঝতে পেরে তার মাকে জড়িয়ে ধরেন এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান। মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ বা এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ আর জীবনে করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রতিক্রিয়ায় মুন্নী খাতুন বলেন, “আমি এখন খুব খুশি। ছেলেটা তার ভুল বুঝতে পারছে, আমাকে ঘরে তুলে নিছে, তার কাছে রাখবে। এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে।”

সাগর হোসেন বলেন, “আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। মাকে অসম্মান করেছিলাম। এটা আমার ঠিক হয়নি। বিজ্ঞ বিচারক মহোদয় আমার ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন। বাকি জীবন মাকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে চাই। সবাই দোয়া করবেন।”

ইউডি/রেজা

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!