প্রকাশিত: অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
খাগড়াছড়ির পাহাড়ে জুম ধান কাটার মৌসুমে ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা। পাহাড়ের ঢালে ঢালে পাকা ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছে। কোথাও ধান কাটা হচ্ছে, কোথাও চলছে মাড়াই ও ফসল সংগ্রহ। তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে রয়েছে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী জুম চাষের ক্রমসংকোচনের চিত্র। একদিকে জুমে এ বছর ভালো ফলনের খবর পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে চাষের জমি কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট এবং নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহে এই কৃষিপদ্ধতি টিকে থাকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে খাগড়াছড়িতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর পাহাড়ে জুম চাষ হয়েছিল। চলতি বছরে চাষের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫০ হেক্টরে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে জুম চাষের জমি কমেছে ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর বা প্রায় ৫৪ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান পাহাড়ের প্রচলিত কৃষিব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জুম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমির স্বল্পতা, পাহাড়ে বসবাসের ঘরবাড়ি সম্প্রসারণ, ফলজ বাগান গড়ে তোলা এবং কৃষিকাজের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক পরিবার আগের মতো জুম চাষ করতে পারছে না। যারা এখনো এ পেশায় যুক্ত রয়েছেন, তাদেরও উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে জুম চাষের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। পাহাড়ের মাটি, ঢাল, বৃষ্টিপাত ও ফসলের ধরন বিবেচনা করে জুম চাষের সময় নির্ধারণ এবং বিভিন্ন ফসলের সমন্বয় করার অভিজ্ঞতা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে উঠেছে। নতুন প্রজন্ম এই পেশা থেকে দূরে সরে গেলে সেই অভিজ্ঞতার চর্চাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে ফলজ বাগান বেড়ে যাওয়ায় জুম চাষের জমি কমছে। জুমে ধান উৎপাদন বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পক্ষ থেকে এ বছর চাষিদের পাঁচ কেজি করে ধানের বীজ এবং ২০ কেজি করে রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) পক্ষ থেকেও বীজ দেওয়া হয়েছে। ব্রি ধান-৮৩, বিনা ধান-১৯ ও বিনা ধান-২১ জাতের ধানবীজ জুমে চাষ হয়েছে। তার মতে, এ বছর তিনটি জাতেরই ভালো ফলন হয়েছে। ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতও ফলন ভালো হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
ইউডি/কেএস


