মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

ফরিদপুরের চার গ্রামে ৫ ঘণ্টা পর থেমেছে দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষ

melongazi

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

ফরিদপুরের চার গ্রামে ৫ ঘণ্টা পর থেমেছে দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষ

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৫:৫৮

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে চার গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ দ্বিতীয় দিন ৫ ঘণ্টা পর থেমেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত চলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৭টা থেকে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়ে ৫ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী

এ সময় ভাঙ্গার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামের বাজার এলাকায় দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এক পক্ষে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্যপক্ষে একই ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের লোকজন অংশ নেয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে ওই তিনটি গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মনসুরাবাদ গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। কেউ বলছেন ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত, আবার কেউ বলছেন ঈদের চাঁদ রাতে পটকা ফাটানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যার জেরে এ সংঘর্ষ।

এর আগে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে খাপুরা গ্রামের এক ব্যক্তিকে মনসুরাবাদ বাজারে মারধর করা হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরই জেরে শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে।

শনিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করে। সংঘর্ষকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড ও হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নেয়। উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ভাঙ্গা থানার পুলিশও হামলার শিকার হয়। এতে ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক ও গ্রামবাসীসহ অন্তত ৬২ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, দুপুর ১টা পর্যন্ত ২৯ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি সবাইকে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দিপু জানান, এ ঘটনায় মশিউর রহমান নামে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ পুলিশের ৩ জন সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ডিবি ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেন। এতে কোনো কাঁদানে গ্যাস বা ফাঁকা গুলি ছোড়ার প্রয়োজন হয়নি।

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, শুক্রবারের সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার সকাল থেকে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং পরে অতিরিক্ত বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া বলেন, স্থানীয় ছোটখাটো বিষয়—যেমন খেলা, মোটরসাইকেল চালানো বা ইভটিজিং—নিয়ে তরুণদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়ে বড় আকার ধারণ করছে। স্থানীয় আধিপত্যের কারণেই তিনটি গ্রাম এক হয়ে মনসুরাবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউডি/রেজা

Advertisement
Link copied!