প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত। একই সঙ্গে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় থেকে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসতেও নয়াদিল্লি প্রস্তুত রয়েছে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠকের সম্ভাবনা এবং দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জয়শঙ্করের কোনো বৈঠক হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই। তবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হলে গণমাধ্যমকে তা জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে গত রোববার নিউইয়র্কে পৌঁছান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। অধিবেশনের ফাঁকে এরই মধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছেন তিনি।
এদিকে পাঁচ দিনের সফরে সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। একই সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তান, ভুটান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির সরকারপ্রধান এবং কুয়েতের যুবরাজের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভারতের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের সূত্র উল্লেখ করে সাংবাদিকরা জানতে চান, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ দুই দেশের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক ধারায় ফেরার কোনো ইঙ্গিত কি না।
এর জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে ভারত আগেও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্য থেকেই দুই দেশের সব ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসতে ভারত প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়।
পরবর্তী সময়ে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসে এবং দলটির নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন। ভারতের সভাপতিত্বে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অংশ নেননি।
এর আগে ভারত জানিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর একটি ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য।
এদিকে ভারতে অনুষ্ঠেয় বহুপাক্ষিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’-তে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণকে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় কি না-সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নও করা হয়।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল পুনরায় বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত যোধপুর বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে যৌথ বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’। এতে অংশ নেওয়া সাতটি বিদেশি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।
সূত্র: ডেকান হেরাল্ড, পিটিআই।


