মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

রাজধানীর বাজারগুলোর করুণ হাল, সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি!

UttorDokkhin

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২০, ০৯:৩৬ এএম

রাজধানীর বাজারগুলোর করুণ হাল, সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি!

উত্তরদক্ষিণ ১৮ এপ্রিল ২০২০ । ০৯:০০

হানজালা শিহাব: মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য। নগরবাসীর ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনামূলক প্রচারণার অন্ত নেই। সংক্রমণের কারণে রাজধানীর অনেক এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। দেশে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ বেশি রাজধানীতেই। তারপরও অকারণে রাস্তায় বের হওয়া বা ঘুরে বেরানো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি।

রাজধানীর বাজারগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। যেখানে মানুষের রীতিমতো এখনও ধাক্কা-ধাক্কি লেগে আছে। এমনকি অনেকে কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থাটুকুও গ্রহণ করছেন না। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই করুণ দৃশ্য দেখা গেছে। ফলে করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ সংক্রমণ রাজধানীতে ব্যাপক হারে ছাড়ানোর ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন সচেতন নগরবাসী।

বাজারে অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা অনেকটা 'ভাগ্যের' ওপর ছেড়ে দিয়েই দৈনন্দিন কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ীসহ অন্য পেশার মানুষও আছেন। রাজধানীর পাইকারী বাজারগুলোতে আসছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা। পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে আসছেন তারা। বেচা-কেনা শেষে তারা আবার ফিরে যাচ্ছেন নিজ নিজ এলাকায়। এতে শুধু রাজধানী নয়, ঢাকার বাইরেও সংক্রমণের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাজারগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মনিটরিং জোরদার করতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার তখন হাজার হাজার মানুষে ঠাসা। কোথাও যেন দাঁড়ানোরও সুযোগ নেই। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে প্রতিদিনই সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হলেও এ যেন ইচ্ছেকৃত সংক্রমিত হওয়ার মিলনমেলা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের বেশিরভাগই নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদাসীন।

বাজার কমিটির কারো দেখা না মিললেও মনিটরিং-এ থাকা একজন জানালেন, সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন তারা। বাজার মনিটরিংয়ে দায়িত্ব থাকা ওই ব্যক্তি বলেন, বাজারের ভেতরে যারা মাস্ক পরছেন না, তাদেরকে মাস্ক পরার বিষয়ে বলা হচ্ছে। নিরাপদ দূরত্বে থাকার বিষয়ে বলা হচ্ছে। কিন্তু সেই বলার কার্যত কোনো ফলাফল দেখা যায় না বাজারগুলোতে।

যদিও মনিটরিং জোরদার করা ছাড়া এ অবস্থার উন্নতি সম্ভব নয় বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ট্রাকগুলো যে পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে, সেখানে ট্রাকগুলো যদি কন্ট্রোল করা যায় এবং কমে কমে ছাড়া যায়। একই সঙ্গে যে ক্রেতারা কিনতে আসবে তাদেরকে যদি কন্ট্রোল করে ছাড়তে পারেন, ভেতরেও যদি লোক সমাগম কম হয়। এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী যদি ভেতরে নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করতে পারে, তাহলেই রক্ষা পাবেন।

এরই মধ্যে দু'জন ব্যবসায়ী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ায় কারওয়ান বাজারের একাংশ লকডাউন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু তাতেও বন্ধ হয়নি ওই বাজারের দৈনন্দিন সকালের কিংবা রাতের চিত্র। কাঁচা বাজার, মাছের বাজার বা অন্যান্য পণ্যের দোকান- সব খানের দৃশ্য একই।

Advertisement
Link copied!