প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০১:১০ পিএম
রাঙামাটির সাজেকে ১২ দিন ধরে ইউপিডিএফ সমর্থিত দুই সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। রবিবার (১ নভেম্বর) ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হলেও সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে পুনরায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন অবরোধকারীরা। টানা অবরোধে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট।
অবরোধের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ এর পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়ায় সংকট নিরসন হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা।
রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় ফেসবুক লাইভে এসে তিনি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এদিকে অবরোধের পাশাপাশি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত দুই দিনে সাজেকের কলাবুনিয়া ও দূরদুরিছড়ায় জেএসএস এবং ইউপিডিএফের মধ্যে দুই দফায় তীব্র বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।
সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এলাকাটি পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় হতাহতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।
টানা অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাজেকে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। সংঘাত ও অবরোধের কারণে সাজেকের রিসোর্ট এবং কটেজ মালিকদের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ স্থানীয় বাসিন্দারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সাজেকে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ এই অবরোধ ও সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের ঘরে খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি উৎপাদিত ফলমূল পরিবহন ও বাজারজাত করতে না পারায় সেসব পঁচে যাচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাজেকবাসী।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও পর্যটকদের সুরক্ষায় এর আগে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
সাজেকের চলমান এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “সাজেকের অবরোধের ১২ তম দিন অতিবাহিত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলেছে। তবে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন সর্বাত্মক সতর্ক রয়েছে।”
ইউডি/রেজা


