মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

বাবা-মাসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে, ছোট বোন সেফ হোমে

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

বাবা-মাসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে, ছোট বোন সেফ হোমে

সুনামগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, তার বাবা-মা, ভাই ও বন্ধুসহ ৭ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। প্রিন্সের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছোট বোনকে রাখা হয়েছে সেফ হোমে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে তাদের সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন না করায় আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রিন্সের বোন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে শিশু আদালতে হাজির করা হয়। শিশু আদালতের বিচারক মাসুদুর রহমান তাঁকে সেফ হোমে রাখার নির্দেশ দেন। সুনামগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর অজয় চন্দ্র দেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইদুর রহমান বলেন, মামলার নথিতে মেয়েটির বয়স ১৬ বছর উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর। তিনি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এজাহারে মেয়েটির বিরুদ্ধে আলাদাভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালত চাইলে তাকে জামিন দিতে পারতেন। কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করে সেফ হোমে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), তার মা শামী আক্তার পলি (৩৮), বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৫), প্রিন্সের বন্ধু ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের কাওছার আহমদ সোহাগ (২১), দিরাই উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের ইফাত আলম রাবিদ (২১), ধর্মপাশা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের শাহরিয়ার সাদি (১৯) এবং সিলেটের ভাদেশ্বর গ্রামের তাকরিব রহমান তানহির (২০)।

এ মামলায় দেওয়ান ফারুক রাজা চৌধুরীর ছেলে ফাহিম রাজা চৌধুরী, সুনামগঞ্জের হাসননগর এলাকার সুজন মিয়ার ছেলে রানা এবং জামালগঞ্জ উপজেলার কদমতলী গ্রামের বিজয় করের ছেলে রজয় করসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের সুনামগঞ্জে নিয়ে আসা হয়।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, প্রিন্সসহ অন্যদের আটকের পর পুলিশের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রোববার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত ৭ আসামিকে কারাগারে পাঠান এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে সেফ হোমে রাখার নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে প্রিন্সকে আটক করে পুলিশ। আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরে সিলেটে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে ছাড়িয়ে নিতে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি, পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশকে আঘাত ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়। 

ইউডি/রেজা

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!