মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

নেত্রকোনায় এইচএসসি ফল প্রকাশে গরমিল, বাড়ল শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

নেত্রকোনায় এইচএসসি ফল প্রকাশে গরমিল, বাড়ল শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা

নেত্রকোনায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে গরমিলের ঘটনা ঘটেছে। জেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের ফেসবুক পেজে প্রথম প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল তিনটি।

পরে সংশোধিত ফলাফলে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচটিতে। শুধু প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই নয়, দুই দফায় প্রকাশিত ফলাফলে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়েও অমিল পাওয়া গেছে। অথচ উভয় ফলাফলেই জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর কবিরের স্বাক্ষর রয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এ অসংগতি সামনে আসে।

গণমাধ্যমকর্মীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন, নেত্রকোনা জেলায় পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। পরে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

প্রথম প্রকাশিত ফলাফলে নেত্রকোনা জেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৮৮৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৫ হাজার ৮৭৩ জন, অকৃতকার্য হয় ৮ হাজার ৭৬ জন এবং জিপিএ-৫ পায় ৭০ জন।

অন্যদিকে, সংশোধিত ফলাফলে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দেখানো হয় ১৩ হাজার ৯১১ জন। উত্তীর্ণ ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৯৮ জন। অর্থাৎ, সংশোধিত ফলাফলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ জন এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ জন বেড়েছে। তবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ফলাফল প্রকাশে এমন অসংগতির বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, জেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রথমে যে ফলাফল দেওয়া হয়েছিল, সেটিই জেলা প্রশাসকের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। পরে জেলা শিক্ষা অফিস সংশোধিত ফলাফল দিলে তা আবার প্রকাশ করা হয়। উপজেলা থেকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়ে থাকতে পারে, যার কারণে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে ভুল তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।

তবে জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর কবির প্রকাশিত ফলাফলে ভুলের বিষয়টি স্বীকার করেননি। তাঁর দাবি, প্রথম প্রকাশিত ফলাফলে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি। যদিও পরবর্তী সময়ে তাঁর স্বাক্ষরিত সংশোধিত তালিকায় দেখা যায়, শতভাগ অকৃতকার্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিওভুক্ত।

সংশোধিত ফলাফল অনুযায়ী, জেলায় সবচেয়ে বেশি তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি পূর্বধলা উপজেলায়। এ ছাড়া কলমাকান্দা ও কেন্দুয়া উপজেলায় একটি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নেত্রকোনা জেলায় এ বছর ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সংশোধিত ফলাফল অনুযায়ী, জেলায় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। তবে ফলাফল প্রকাশের দুই দফায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিয়ে এমন অসংগতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য যাচাই ও প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ইউডি/রেজা

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!