মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

‘ইনানীতে অগ্নিকাণ্ড, গ্যাসের বড় মজুদ প্রাপ্তির আশা’

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

‘ইনানীতে অগ্নিকাণ্ড, গ্যাসের বড় মজুদ প্রাপ্তির আশা’

কক্সবাজারের ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের পাইপে অগ্নিকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ওই এলাকাটি কোন গ্যাসফিল্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণার কথা জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপরেশন এন্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব।

সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর যদি আগুন নিভে না যায় তাহলে পাশ দিয়ে রিলিফ কূপ খনন করে আগুন নেভানো হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটি কোন পকেট মজুদ হওয়ার সম্ভবনা খুবই ক্ষীণ। যেসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাতে আগুনের উৎস ভূগর্ভের অগভীর কোনো গ্যাসের মজুত বা শ্যালো রিজার্ভার। গ্যাসের উৎস ও প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময় আগুনের শিখার উচ্চতা ও গ্যাস নির্গমনের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে কোন ডিপিপি প্রণয়ন করার প্রয়োজন পড়বে না। বাপেক্স বোর্ড অনুমোদন দিলেই ১ মাসের মধ্যে কূপ খনন শেষ করতে পারবে। সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিলিফ কূপ খননের মাধ্যমে গ্যাসের নির্গমন বন্ধের চেষ্টা করা হবে। বিশ্বব্যাপী এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সম্প্রতি কাছাকাছি কোন কূপ খননের রেকর্ড নেই। ১৯৬১ সালে ইনানী থেকে দূরে গভীর সাগরে কূপ খনন করা হয়েছিল। তখন সেখানে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় গ্যাস বেরিয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারের স্বাক্ষরিত ১৪৪ ধারা জারির আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে। ঘটনাস্থলে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বাপেক্সের একটি কারিগরি দল স্থানটি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

জমির মালিক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই জমিতে গভীর নলকূপ খননের কাজ শুরু হয়। এক সপ্তাহ ধরে খনন করেও প্রায় এক হাজার মিটার গভীরতায় পানি পাওয়া যায়নি। পরে কাজ বন্ধ করে শ্রমিকেরা চলে যান। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর খননস্থল থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে পাশের বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে এখনো আগুন জ্বলছে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, ২৭ অক্টোবর সকালে নলকূপে আগুন জ্বললেও বিকেল পাঁচটার পর থেকে এর তীব্রতা বাড়তে থাকে। শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত আগুনের তীব্রতা একই রকম ছিল। এর আগে বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। স্থানীয় লোকজনও আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেন।

ইউডি/রেজা

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!