প্রকাশিত: অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
খাগড়াছড়ির পাহাড়ে বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব। দীর্ঘ তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ উৎসব পালন করছেন।
শুক্রবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি সদরের ধর্মপুর এলাকার ঐতিহ্যবাহী আর্য বন বিহার, জেলা সদরের অন্যতম প্রাচীন য়ংড বৌদ্ধবিহার এবং কল্যাণপুরের মৈত্রী বৌদ্ধবিহারে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়। এসব বিহারে সকাল থেকেই পুণ্যার্থীদের ভিড় দেখা গেছে।
কঠিন চীবর দানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে সেই সুতা দিয়ে কাপড় বুনন এবং তা ভিক্ষুদের দান করা। উপাসক-উপাসিকারা নিজেদের হাতে তৈরি করা চীবর ভান্তেদের পরিধানের জন্য দান করেন।
কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বিহারগুলোতে পঞ্চশীল গ্রহণ, পিণ্ডদান, চীবর বুনন ও দান, ধর্মীয় দেশনা এবং নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় গুরুদের দেশনা শুনতে বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত হন নারী-পুরুষ পুণ্যার্থীরা।
ধর্মপুর আর্য বন বিহারে প্রধান প্রজ্ঞালেন্দু ভান্তে ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন। বিশাল প্যান্ডেলে বসে পুণ্যার্থীরা তার দেশনা শ্রবণ করেন। একইভাবে য়ংড বৌদ্ধবিহার ও মৈত্রী বৌদ্ধবিহারেও দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সন্ধ্যায় বিহার প্রাঙ্গণে বাতি প্রজ্বালন, হাজার প্রদীপ জ্বালানো এবং ফানুস ওড়ানোর আয়োজন করা হবে। কঠিন চীবর দানকে ঘিরে বিভিন্ন বিহার ও মন্দির প্রাঙ্গণে বসেছে মেলা। এতে ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজও ছড়িয়ে পড়েছে।
খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে প্রতিদিনই পর্যায়ক্রমে কঠিন চীবর দান উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
ইউডি/কেএস


