মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

পদ্মা সেতু-সংলগ্ন পদ্মায় জাটকা সংরক্ষণে অভয়াশ্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

পদ্মা সেতু-সংলগ্ন পদ্মায় জাটকা সংরক্ষণে অভয়াশ্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতু-সংলগ্ন পদ্মা নদীতে জাটকা ইলিশের বিচরণ ও খাদ্যগ্রহণের অনুকূল পরিবেশ বিবেচনায় মৎস্য অভয়াশ্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত অভয়াশ্রমের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কারিগরি সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা মৎস্য অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।

সভায় জেলার বিদ্যমান মৎস্য অভয়াশ্রমের ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতি, নতুন অভয়াশ্রম ঘোষণা, বিদ্যমান অভয়াশ্রম সম্প্রসারণের প্রস্তাব এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, মুন্সীগঞ্জ নদীবিধৌত জেলা হওয়ায় এখানকার নদ-নদী ও জলাশয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু-সংলগ্ন লৌহজং অংশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চর জেগে ওঠা ও অগভীর জলাঞ্চল সৃষ্টি হওয়ায় জাটকা ইলিশের বিচরণ ও খাদ্যগ্রহণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এসব এলাকায় জাটকার আধিক্য বিবেচনায় অভয়াশ্রম সম্প্রসারণের যৌক্তিকতা যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ও গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, লৌহজংয়ের পদ্মা নদীতে প্রস্তাবিত অভয়াশ্রম সম্প্রসারণ করা গেলে জাটকা সংরক্ষণ, ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর সুফল পড়তে পারে।

সভায় সিরাজদিখান, লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা থেকে পাওয়া মৎস্য অভয়াশ্রম-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও যৌক্তিকতাসহ প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া লৌহজং উপজেলার প্রস্তাবিত অভয়াশ্রম সম্প্রসারণের বিষয়টি আসন্ন জেলা প্রশাসক সম্মেলনে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য অংশীজনের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। সীমিত জনবল ও প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেও অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন পিপিএমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় অংশ নেন।

সভা শেষে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, জাটকা নিধন প্রতিরোধ, অভয়াশ্রমের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

ইউডি/কেএস

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!