প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ইন্ডিয়া থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা চিতা বাঘের আক্রমণে নারীসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারে ঢাকা ও রংপুর থেকে বন বিভাগের দুটি বিশেষ টিম কাজ করছে। ইতোমধ্যে মধ্যরাতে ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তের একটি জঙ্গলে বাঘটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
কিন্তু সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে বাঘটিকে আর দেখা যাচ্ছে না। ফলে এই এলাকার মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। এর আগে রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তের ৯০৫ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন-আমঝোল গ্রামের শরিফা বেগম (৩৪), নজরুল ইসলাম (৪৫) ও আফসার আলী (৪০)। বর্তমানে তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে শরিফা বেগম ধানখেতে নিজের ছাগল আনতে গিয়ে সীমান্তের কাছাকাছি একটি ছাগলকে আক্রমণ করতে দেখেন। তিনি সেই ছাগলকে রক্ষা করতে গেলে বাঘটি তার ওপরও হামলে পড়ে। এ সময় তার আর্তচিৎকারে এলাকার নজরুল ও আফসার আলী এগিয়ে এলে বাঘটি তাদের ওপরও আক্রমণ চালিয়ে ধানখেতে লুকায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় হাজারো মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখেন এবং নির্ঘুম রাত কাটান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয় এবং মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়।
রাত বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে ড্রোন ওড়ানো হয়। মধ্যরাতে ড্রোনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে যে, সীমান্তের একটি জঙ্গলে বাঘটি লুকিয়ে রয়েছে। তবে শেষ রাতের দিকে বাঘটি ড্রোন ক্যামেরার পরিধির বাইরে চলে যায়।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সারারাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
ইউডি/রেজা


