প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
শিক্ষকতা যে কেবলমাত্র একটি পেশা নয়, বরং এমন একটি প্রদীপ—যার আলো অন্যকে পথ দেখায়; এমনই দীর্ঘ এক কর্মজীবনের সফল সমাপ্তি টেনেছেন আলোকিত মানুষ, ভোলা সদরের ৫৫নং চরসামাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান।
গত ১৪ অক্টোবর তার অবসর উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় ‘বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান’। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গুণীজনদের অশ্রুসিক্ত ও আবেগঘণ উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ বিষাদময় আবহ তৈরি করে।
আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের আগে থেকেই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে তার সখ্যতা মো. ফজলুর রহমানের। ভোলা সদরের ঐতিহ্যবাহী চরনোয়াবাদ মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেন তিনি। সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর সততা, একনিষ্ঠতা ও অনন্য মেধার সাক্ষর রেখে গেছেন একাধিক বিদ্যালয়ে।
চর রমেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুরাদ ছবুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ব্যাংকের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আজও তার পাঠদানের স্নেহমাখা শৈলী স্মরণ করে।
মো. ফজলুর রহমান তার অসামান্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১১ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন। ২০১৬ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ মনোনয়নে তিনি থাইল্যান্ড সফর করে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেন।
ভোলা সদরের চৌমুহনীর ঐতিহ্যবাহী সেকান্দার আলী হাজী বাড়ির মরহুম নুরুল হক হাওলাদার ও মরহুমা আনোয়ারা বেগমের সুযোগ্য পুত্র ফজলুর রহমান।
পারিবারিক জীবনে তিনি ৪ সন্তানের গর্বিত জনক। তার জীবনসঙ্গিনী মোহসেন আরা বেগমও একজন শিক্ষিকা। তিনি জেলা সদরের পশ্চিম রুহিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সম্প্রতি অবসর গ্রহণ করেন।
এই শিক্ষক দম্পতির সন্তানরাও সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান মো. আসাদুজ্জামান দৈনিক ‘উত্তরদক্ষিণ’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বাকি দুই ছেলে ও এক মেয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সুনামের সাথে কর্মরত আছেন।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ উপস্থিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সহকর্মীরা জানান, ফজলুর রহমান কেবল একজন প্রধান শিক্ষক ছিলেন না; তিনি ছিলেন অভিভাবক, সহকর্মীদের পথপ্রদর্শক এবং শিক্ষার্থীদের পরম শ্রদ্ধেয় এক ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠান শেষে তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং শুভকামনা জানিয়ে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করে ৫৫নং চরসামাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ইউডি/এবি


