মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

ভৈরবে টর্চলাইট জ্বালিয়ে তিন ঘণ্টা সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৫

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

ভৈরবে টর্চলাইট জ্বালিয়ে তিন ঘণ্টা সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৫

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পৌর শহরের ঘোড়াকান্দা এলাকার হাবিব হুজুরের বাড়ির লোকজন ও বালুর মাঠ এলাকার সোহেল মিয়ার বাড়ির লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ চলে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আহত পুলিশ সদস্য নাজমুল হোসেনকে (৪২) গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভৈরবপুর এলাকার আরিফ হাজীর সঙ্গে ঘোড়াকান্দা বালুর মাঠ এলাকার সোহেল মিয়ার ছেলে ও তার সঙ্গীদের কথা কাটাকাটি হয়। শনিবার বিকেলে ঘোড়াকান্দা মোড়ে এ ঘটনা নিয়ে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখান থেকে ফেরার পথে সোহেল মিয়ার ছেলে ও তার সঙ্গীরা হাবিব হুজুরের বাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।

তবে কিছুক্ষণ পর সোহেল মিয়ার বাড়ির ছাদ থেকে আবারও ঢিল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের লোকজন পরস্পরের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হন এক পুলিশ সদস্য। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ ও ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান। তাদের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আহতদের মধ্যে জোবায়েদ আহমেদ (২৪), অনন্ত (২০), রবিন আহমেদ (১৮), রাতুল হাসান (২৩), মোস্তফা মিয়া (২২), সুজন মিয়া (২২), সালমান হোসেন (১৬), আরমান মিয়া (১৬) ও সাইফুল হোসেন (৩৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাবিব হুজুরের বাড়ির প্রধান আলহাজ হাবিবুর রহমান বলেন, অন্য এলাকার লোকজনের সঙ্গে সোহেলদের পরিবারের বিরোধ হয়েছিল। কিন্তু তারা অকারণে তাদের বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা তার ছেলেদের ওপর চড়াও হন। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অন্যদিকে সোহেল মিয়ার দাবি, হাবিব হুজুরের ছেলেরা তাদের বাড়িতে হামলা করতে গেলে তার বাড়ির লোকজন পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোড়াকান্দায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ওসি বলেন, রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউডি/রেজা

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!