প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ৫ মাস আগে নিখোঁজ আরিফ মিয়া ওরফে সালমানকে (১৯) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসুন্ধা নদী থেকে মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের ৭৭টি হাড় ও আরিফের ব্যবহৃত একটি গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়ি থেকে ইলিম বাজারের উদ্দেশে বের হন হোসেনপুর উপজেলার কুড়িমারা গ্রামের বাসিন্দা আরিফ। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন হোসেনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা ফজলুর রহমান।
দীর্ঘ ৫ মাস ছেলের সন্ধান না পেয়ে গত ১৬ অক্টোবর হোসেনপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন ফজলুর রহমান। মামলাটির তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আরিফ ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের গতিবিধি, মোবাইল ফোনে কথোপকথনসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তিগত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সূত্র পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।
পরে অভিযান চালিয়ে সাকিব (১৮), মাফি (১৫), রফিক (৪০) ও রমজান মিয়া (৩৫) নামে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মাদক সেবনের সময় তাদের মারধরে আরিফের মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ নরসুন্ধা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নদীতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরিফের ব্যবহৃত একটি গেঞ্জিও পাওয়া যায়। গেঞ্জিটি দেখে তার মা প্রাথমিকভাবে ছেলেকে শনাক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। উদ্ধার করা দেহাবশেষের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা দেহাবশেষের ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলছে।
ইউডি/রেজা


