প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, “কারখানা পরিদর্শনে শ্রম পরিদর্শকদের কাজে বাধা দেওয়া কিংবা দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা করা হলে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পরিদর্শন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে হবে।”
শনিবার (১০ অক্টোবর) সিলেটের রোজ ভিউ হোটেলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) শ্রম পরিদর্শকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “অনেক কারখানায় অগ্নিনির্গমন পথের অভাব, বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারে প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় নিয়মিত পরিদর্শন জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং কারখানার কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
তিনি বলেন, “পরিদর্শনের সময় কোনো কারখানায় লাইসেন্সের ঘাটতি কিংবা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নজরে এলে তা নথিভুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। দুর্ঘটনায় একজন দক্ষ শ্রমিকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনশীলতার জন্যও বড় ক্ষতি।”
মন্ত্রী বলেন, “দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়া কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হবে। অন্যদিকে, পরিদর্শন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা মেনে নেওয়া হবে না। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধেও কার্যকর পরিদর্শন চালাতে হবে।”
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা এবং শ্রম আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোরদার করার পাশাপাশি সময়োপযোগী শ্রম পরিদর্শন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।”
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার ওলে জাস্টেনসেন এবং সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। এ সময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউডি/কেএস


