মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

এনসিটি চুক্তি নিয়ে ‘দেশ বিক্রির’ সমালোচনা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

এনসিটি চুক্তি নিয়ে ‘দেশ বিক্রির’ সমালোচনা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলার সমালোচনা অমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই চুক্তি করা হয়েছে। মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ চাইলে চুক্তি নবায়ন করবে, অন্যথায় সেখানেই এর সমাপ্তি ঘটবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলে অভিহিত করা সস্তা ও অমূলক কথা। দেশের বাইরে থেকে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে এবং দেশীয় বিনিয়োগ বাড়াতে হলে পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যয় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সরকার বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে না পারলে কীভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে? এ কারণেই চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই চুক্তি করা হয়েছে।

চুক্তির ফলে বন্দরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে, বর্তমানে বন্দরে যারা কাজ করছেন, তাদের কারো কর্মচ্যুতি ঘটবে না। দক্ষতা বাড়ার ফলে তাদের সুযোগ-সুবিধা ও পারিশ্রমিকও বাড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান পিছিয়ে পড়া প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। দেশটি তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি থাকায় দেশটি বিভিন্ন সময়ে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে গেছে। সরকার বিশ্বাস করে, আগামী দিনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকেরা তাদের আগের অবস্থান আবার ফিরে পাবেন।

সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি এর পাশে দৃষ্টিনন্দন আরেকটি সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

নগর ও নগরের বাইরের বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের দরপত্র হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শীত মৌসুম থেকে এসব কাজ শুরু হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার সড়কের কাজ হয়েছে। বাকি সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে বড় একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে।

নগরের পানিসংকট সমাধানে সুরমা, কুশিয়ারা ও চেঙ্গেরখাল থেকে পানি তুলে পরিশোধনের মাধ্যমে সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে বিকল্প উৎস থেকে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নগরের কাষ্টঘরে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনযাত্রার দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তাদের জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা করতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চা-বাগানগুলোতে সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয় নির্মাণের বিষয়েও কাজ করা হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি নির্বাচনী আসনের মধ্যে ১২টি চা-বাগান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইউডি/কেএস

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!