প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন তারা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, কুমিল্লার পুলিশ সুপারের প্রেস ব্রিফিং না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। এ সময় তারা অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘কুমিল্লায় মানুষ মরে, পুলিশ গিয়ে মেডেল ধরে’, ‘খুনির কোনো ছাড় নাই, ফাঁসি ছাড়া নিস্তার নাই’, ‘আজকে অপ্রতিম, কালকে কার পালা’ এবং ‘বুকের রক্ত ভেসে গেল, প্রশাসন চুপ কেন’—এ ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
পুলিশের পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের একটি কারণ হয়ে ওঠে। এ কারণে তারা ‘কুমিল্লায় মানুষ মরে, পুলিশ গিয়ে মেডেল ধরে’ স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, কুমিল্লায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সাফল্যের জন্য পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, “আমরা আজ শুধু অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। এ চিত্র সারা বাংলাদেশের। কুমিল্লাতেও প্রতিনিয়ত এসব ঘটনা ঘটছে। এরপরও পুলিশ সুপার অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যান। আমরা অপ্রতিমের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, “এটি পুরোপুরি পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলছে, ‘ক্লু পেয়েছি, ক্লু পেয়েছি’; কিন্তু তারা কী ক্লু পেয়েছে, তা আমরা আদৌ জানি না। এই ব্যর্থতার দায় তারা যতক্ষণ পর্যন্ত স্বীকার না করবে, ততক্ষণ আমরা রাস্তায় থাকব।”
এদিকে কুমিল্লার ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুল হক জানান, শিক্ষার্থীরা কিছুক্ষণ আগে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।
এর আগে রোববার সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ১১টায় কুমিল্লার গন্ধমতিতে তার দ্বিতীয় জানাজা হয়। জানাজা শেষে সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতিমের মরদেহ
শুক্রবার দুপুরের পর বাসা থেকে আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। এরপর শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে বিনোদন পার্ক ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’ সংলগ্ন দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক
এস/আর


