UttorDokkhin
প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬, ১১:০৫ এএম
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১১:০৫
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় মোনিয়া রহমান মুন্নি (১৯) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে মুন্নির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মুন্নি ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া ভূঁইয়াবাড়ী এলাকার মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী একই গ্রামের লাল মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে জিহাদ ভূঁইয়া।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের আগে জিহাদ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুন্নির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ে হলেও বিভিন্ন সময় মুন্নিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের দাবিতে কয়েক মাস আগে জিহাদের বাড়িতে টানা পাঁচ দিন অবস্থান করে অনশন করেছিলেন মুন্নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সালিশের মাধ্যমে গত ৩০ এপ্রিল ৯ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, বিয়ের পরও নির্যাতন অব্যাহত ছিল। এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলেও জানান তারা। ঘটনার পর মুন্নির স্বামী ও শাশুড়ি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে পরিবারের দাবি।
মুন্নির মা রিনা বেগমের অভিযোগ, তার মেয়েকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউডি/কেএস