মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে শ্রমিক কর্মবিরতিতে পণ্য খালাস বন্ধ

UttorDokkhin

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ১১:২৪ এএম

বেনাপোল বন্দরে শ্রমিক কর্মবিরতিতে পণ্য খালাস বন্ধ

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, আপডেট ১১:২৫

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ এনে ডাকা কর্মবিরতিতে বন্ধ রয়েছে পণ্য খালাস কার্যক্রম। তবে বন্দর থেকে পণ্য খালাস বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক রয়েছে দুই দেশের মধ্য পণ্য পরিবহন কার্যক্রম।

রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে কর্মবিরতি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বেনাপোলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে বন্দরে পণ্যজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুন) বেনাপোল বন্দরের শ্রমিক প্রতিনিধিরা বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়ে কর্মবিরতির বিষয়টি তাদের অবগত করেন। আবেদনে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। তবে দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তি করেনি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় ও কার্যকর যোগাযোগও বজায় রাখা হয়নি। শ্রমের নায্য মূল্য ও ঝুঁকিপণ্য খালাসে নিরাপদ সামগ্রী সরবরাহ করে না। বিষয়টি একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ পণ্য খালাসের সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে শ্রমিকদের কর্মবিরতির ঘোষণায় বন্দরের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি উজ্বল বিশ্বাস বলেন, এই কর্মবিরতিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়বে পচনশীল জাতীয় কাচামালের ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি দ্রুত সুরাহ না হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারও বড় অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, পণ্য খালাস না হলে আমদানি-রফতানি চালু থেকে তেমন লাভ হবে না ব্যবসায়ীদের। কাস্টমস, বন্দর সবখানে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শ্রমিকদের দাবি বিবেচনা করে পণ্য খালাস কার্যক্রম চালু করতে বন্দর ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহবান জানান তিনি।

বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার জহীর রায়হান জানান, বেনাপোল বন্দর থেকে বড় অংকের রাজস্ব আহরণ করে ব্যাংক, যা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। এই কর্মবিরতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে রাজস্ব আয়ে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দাবি-সংবলিত আবেদনটি এরইমধ্যে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত আসবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।

ইউডি/কেএস

Advertisement
Link copied!