প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
’জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর তাঁর সফর নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টায় নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলের লবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর ১০টির বেশি দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো বৈঠকের সুযোগ বা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না।
জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সফরটি দ্বিপক্ষীয় নয়, বরং বহুপক্ষীয়। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়াই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে সেটি দ্বিপক্ষীয় সফরের অংশ হিসেবে উপযুক্ত সময়ে আয়োজন করা হবে। দুই দেশের জন্য সুবিধাজনক সময় বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, বর্তমান সফরের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়া। ফলে জাতিসংঘের কার্যক্রমের বাইরে আলাদাভাবে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে গত ৩১ আগস্ট চিঠি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই চিঠিতে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
এদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে নিউইয়র্ক সফরে কোনো ধরনের আলোচনা হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ সফরে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আলোচনার মূল বিষয় হবে না।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পর দেশটি কোন নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, সে বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরাই হবে সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বহুপক্ষীয় বিষয়গুলোই এবারের সফরে বেশি গুরুত্ব পাবে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ খুব সীমিত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা আগের তুলনায় কম রাখা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৩ জনের একটি ছোট বহর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে গেছেন। এর বাইরে প্রয়োজনীয় মিডিয়া, নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত স্টাফরা রয়েছেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, সীমিতসংখ্যক সফরসঙ্গী নিয়ে আসার মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী যেন বাংলাদেশের স্বার্থ, সাধারণ মানুষের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
এস /আর


