প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচি দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি শুধু তার ৫৬ দিনের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কে কেন্দ্র করে নয়। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ, বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ধারাবাহিকতার ভিত্তিতেই তারা এ দাবি জানাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অরিন্দম দে, মাহতাব হক, সাকিব হাসান ও মাহিরা তাজরি।
মাহিরা তাজরি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের কাছে সহজলভ্য প্রশাসক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সরাসরি শুনে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ায় তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাকিব হাসান বলেন, ২০০৫ সালে চুয়েটে শিক্ষকতা শুরু করা অধ্যাপক সায়েম দীর্ঘ সময়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা করেছেন। নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে তার ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক সায়েমের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সাকিব বলেন, আন্তর্জাতিক কোলাবরেশন অফিস চালু, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণা হাব, স্মার্ট ক্লাসরুম এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
৫৬ দিনের দায়িত্বকাল প্রসঙ্গে মাহতাব হক বলেন, একজন উপাচার্যের পূর্ণ মেয়াদ মূল্যায়নের জন্য ৫৬ দিন যথেষ্ট নয়। তবে শিক্ষার্থীদের কথা শোনা, সংকটে পাশে থাকা এবং সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার মানসিকতা বোঝার জন্য এ সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন শুধু ৫৬ দিনের একজন উপাচার্যকে ঘিরে নয়। আমরা এমন একজন শিক্ষক ও প্রশাসকের কাজের ধারাবাহিকতা চাই, যার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি দৃশ্যমান আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমরা উপাচার্য হিসেবে তাকেই চাই।
মাহতাব আরও বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন উপাচার্যের ব্যক্তিগত বা অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে তারা কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করছেন না। অধ্যাপক সায়েমের দৃশ্যমান কাজ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আস্থা এবং চলমান উদ্যোগের ধারাবাহিকতার ভিত্তিতেই তারা পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন।
অরিন্দম দে বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তন করা হয়। সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানানো হলেও প্রজ্ঞাপনে এর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের আপত্তি নতুন উপাচার্যকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে নয়; কোনো দৃশ্যমান ব্যাখ্যা ছাড়াই অধ্যাপক সায়েম স্যারকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।
অরিন্দম দে জানান, সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরদিন থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে গণ-অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলছে বলে জানান তিনি।
আন্দোলনকে রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় দ্বন্দ্বের সঙ্গে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে অরিন্দম দে বলেন, কিছু সংবাদ প্রতিবেদন ও ব্যক্তিগত বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অনুমাননির্ভর রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় দ্বন্দ্বের কাঠামোয় উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এমন ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন, গণ-অবস্থান, গণস্বাক্ষর ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
ইউডি/রেজা


