মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসিকে উদ্ধার করতে ক্যাম্পাসে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসিকে উদ্ধার করতে ক্যাম্পাসে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে ক্যাম্পাসে গেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে তারা রাউজানের চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন। পরে উপাচার্যকে পদত্যাগের জন্য আলটিমেটাম দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা। এরপর থেকে উপাচার্য নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন।

উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চুয়েটে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওইদিন উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া হয়। পরে মুখোশ মিছিল, চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। একপর্যায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক বন্ধের কর্মসূচি শুরু হয়।

আন্দোলনের মধ্যে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তারা সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনও কর্মসূচি পালন করছে। সোমবার উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সংগঠনগুলো যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউডি/রেজা

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!