প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আকাশজুড়ে মেঘ, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি আর বাতাসে ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ—বর্ষার আবহাওয়া অনেকের মন ভালো করে দিলেও এ সময় ত্বক ও চুলের জন্য তৈরি হয় কিছু বাড়তি ঝুঁকি। বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ত্বকে তেলতেলে ভাব, ঘাম, ব্রণ কিংবা ফাঙ্গাল সংক্রমণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। একইভাবে দীর্ঘ সময় ভেজা চুল বা মাথার ত্বক আর্দ্র থাকলে ছত্রাকজনিত সমস্যা হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
তবে একটু সচেতন থাকলেই বর্ষার এই আর্দ্র আবহাওয়াতেও ত্বক ও চুল ভালো রাখা সম্ভব।
-20260920061202.jpg)
ত্বক পরিষ্কার রাখুন
বর্ষায় বাইরে বের হলে ধুলা, ময়লা ও দূষিত পানি ত্বকে সহজেই লেগে যায়। তাই বাইরে থেকে ফিরে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ও শরীর ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেলযুক্ত প্রসাধনী এড়িয়ে চলা ভালো। আবার ত্বক শুষ্ক হলে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
সানস্ক্রিন ভুলবেন না
আকাশ মেঘলা থাকলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দিনের বেলায় বাইরে যাওয়ার আগে ত্বকের উপযোগী সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভেজা ত্বক শুকনো রাখুন
বর্ষায় হাত-পা বা শরীর দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় রাখা ঠিক নয়। গোসল কিংবা বৃষ্টিতে ভেজার পর পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে শরীর ভালোভাবে মুছে নিন। বিশেষ করে পায়ের আঙুলের ফাঁক, বগল ও ত্বকের ভাঁজগুলো শুকনো রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ভেজা জুতা বা মোজা দীর্ঘ সময় পরে থাকলেও পায়ে ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে শুকনো জুতা-মোজা ব্যবহার করুন।
চুল ও মাথার ত্বকের যত্ন

বৃষ্টিতে চুল ভিজে গেলে দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় না রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়া ভালো। মাথার ত্বক অতিরিক্ত আর্দ্র থাকলে অস্বস্তি, খুশকি বা ছত্রাকজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চুল পরিষ্কারের জন্য নিজের চুল ও মাথার ত্বকের উপযোগী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত তেল বা ভারী প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। চুল শুকানোর সময় খুব বেশি গরম বাতাস ব্যবহার না করে স্বাভাবিকভাবে শুকানোর সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
ঘরোয়া প্যাক ব্যবহারে সতর্কতা
ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করার প্রবণতা থাকলেও সবার ত্বকে একই উপাদান একইভাবে কাজ করে না। বিশেষ করে লেবুর রস, বেকিং সোডা বা অন্যান্য অ্যাসিডিক উপাদান সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করলে কারও কারও জ্বালা বা অ্যালার্জি হতে পারে।
নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। সংবেদনশীল ত্বক হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

পা ও নখের যত্ন
বৃষ্টির পানি বা কাদা লাগার পর যত দ্রুত সম্ভব পা পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন। নখ নিয়মিত ছোট ও পরিষ্কার রাখুন। হাত-পা ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
যাঁরা নিয়মিত পানি, ডিটারজেন্ট বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে হাত ভেজান, তাঁদের হাত শুকনো রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উপকারী।

খাবার ও পানির দিকেও নজর দিন
ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে পরিচর্যার বিষয় নয়। পর্যাপ্ত পানি পান, মৌসুমি ফল ও শাকসবজি খাওয়া এবং সুষম খাবার গ্রহণ শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষায় বাইরের খাবার ও অপরিষ্কার পানি গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
ত্বকে দীর্ঘদিন চুলকানি, লালচে দাগ, ফুসকুড়ি, খোসা ওঠা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে বিভিন্ন ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। একইভাবে মাথার ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি, ক্ষত বা দীর্ঘস্থায়ী খুশকির সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বর্ষায় ত্বক ও চুল ভালো রাখার মূল কথা হলো—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, শরীর ও চুল শুকনো রাখা, নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী ব্যবহার করা এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। অতিরিক্ত প্রসাধনীর চেয়ে নিয়মিত ও সহজ যত্নই এ সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এস/ আর


