মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র

সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজের রিমান্ডের আবেদন

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজের রিমান্ডের আবেদন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানার মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রবিবার (১ নভেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (দক্ষিণ) পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শেখ বশির আহমেদ এ আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামি খন্দকার আব্দুল হাফিজ তার সহযোগী লে. (অব.) কাজী গুলশান আরা ও লে. কর্নেল (অব.) দেবাশীষসহ (৪৭) অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছিলেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, কতিপয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস অপরাধের ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিলেন। তার ‘খন্দকার এ হাফিজ’ ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন পেজের মাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট পোস্ট করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং পুলিশ হত্যার পক্ষে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। গত ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, কুৎসামূলক প্রচারণা এবং দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে আসামির যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তের স্বার্থে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদনে যে-সব কারণে তাকে রিমান্ডে চাওয়া হয়-

১. অন্যান্য সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করা।

২. রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কাজে নিয়োজিত দেশি ও বিদেশি গুপ্তচরদের শনাক্ত করা।

৩. অপরাধের সঙ্গে জড়িত ডিজিটাল আলামত উদ্ধার ও জব্দ করা।

৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত অন্য কোনো গোপন পেজ বা ওয়েবসাইট আছে কি না তা বের করা।

৫. মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং দেশবিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রতিহত করা।

৬. আসামির কাছ থেকে জব্দ করা আলামত যাচাই-বাছাই করা।

এর আগে, শনিবার রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। 

রাজধানীর পল্লবী থানার এ মামলার অভিযোগ থেকে, আসামি মেজর (অব.) খন্দকার আব্দুল হাফিজ তার সহযোগীদের নিয়ে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। 

এছাড়া কতিপয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে অবৈধ অর্থায়ন, পুলিশ হত্যার পক্ষে অপপ্রচার এবং দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সহায়তায় রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধে জড়িত রয়েছেন বলে আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে অভিযোগ করেছে ডিবি পুলিশ।

ইউডি/রেজা

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!