প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
২০১৩ সালে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ১২ নভেম্বর শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রবিবার (১ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির তারিখ পিছিয়ে ১ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, মামলার আসামি সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়নি। আদালত শুনানির তারিখ পিছিয়ে দিয়েছেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামি হলেন- সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, আব্দুর রাজ্জাক, দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির (ঘাদানিক) সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও সাংবাদিক ফারজানা রূপা।
এ মামলায় পলাতক ৩০ আসামি হলেন- শেখ হাসিনা, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, সালাউদ্দিন মাহমুদ ওরফে এস এম জাহিদ, ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ, লে. জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন, আশরাফুজ্জামান, এস এম মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, এস এম শিবলী নোমান এবং বিএম ফরমান আলী।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যা সংঘটিত হয়। হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা মিলে হত্যাকাণ্ড চালান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্তে শিশুসহ আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার তথ্য উঠে এসেছে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পিত ঘটনা। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অভিযানের আগে মন্ত্রী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে গ্রেনেড ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও প্রসিকিউশনের দাবি। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই শিশুসহ হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে প্রথমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজতের নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি অভিযোগটি দাখিল করেন। প্রাথমিক অভিযোগে ২১ জনকে আসামি করা হলেও তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। শুনানি শেষে আদালত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন।
ইউডি/রেজা


