প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
রাজধানীর কাঁচাবাজারে আগাম শীতের সবজি উঠতে শুরু করলেও চড়া দামে তা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। বাজারে শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো শীতকালীন সবজির দেখা মিলছে, তবে দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা, টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা আর বেগুন ১০০ টাকায়। পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া বেশির ভাগ সবজিই কিনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকা বা তার বেশি দামে।
তবে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচামরিচের বাজারে। বর্তমানে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মাছ ও মাংসের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত থাকলেও ডিমের দাম কিছুটা কমে ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের কেজি ১০০ টাকা। শীতের আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়সের দামও কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। তবে আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিতে ১৬০ টাকা। আর প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ফুলকপি পিচে ৭০ টাকা বিক্রি হয়।
এদিকে মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০, পাঙাশ ২২০- ২৩০, রুই-কাতল ৩৮০-৪২০ এবং চিংড়ি ১,০০০-১,৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং সইল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ ও জীবিত ও মৃত উপর দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে।
বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, অল্প কয়েকটি সবজি কিনতেই আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিম, টমেটো ও বেগুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম বেশি হওয়ায় সংসারের খরচের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। কম দামের সবজির বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে অনেককে। ফলে পছন্দের সবজি কেনার পরিবর্তে দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিমাণ কমিয়ে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা।
বাজার করতে আসা আবুল হোসেন প্রত্যাশা করেন, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে। মৌসুমের আগাম সবজি বাজারে আসার পরও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে না থাকলে শীতের সবজির স্বাদ নিতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এ পরিস্থিতি বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সবজির বাজারে উচ্চমূল্যের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে কাঁচামরিচে। বর্তমানে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকটি সবজির তুলনায় কাঁচামরিচের দাম কমে আসায় ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। তবে সামগ্রিকভাবে সবজির বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।
সবজি বিক্রেতা আব্দুর রহিম মন্ডল বলেন, বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজি পাওয়া গেলেও সব পণ্যের দাম সমানভাবে কমেনি। মৌসুমের শুরুতে আগাম শীতের সবজির দাম সাধারণত বেশি থাকে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, দাম কমার অপেক্ষায় থাকলেও প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে তাদের বাজার করতেই হচ্ছে।
এদিকে মাছ ও মাংসের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। এসব পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। তবে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
রাজধানীর কাঁচাবাজারে আগাম শীতের সবজির উপস্থিতি বাড়লেও দাম এখনো ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে পারেনি। পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া ও পটলের মতো কয়েকটি সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও শিম, টমেটো ও বেগুনের বাড়তি দাম বাজারের সামগ্রিক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমবে এবং বাজারে স্বস্তি ফিরবে।
ইউডি/কেএস


