মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৯:৩১ এএম

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইরান ও কাতারের কর্মকর্তারা টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা করেছেন। কূটনৈতিক অগ্রগতির আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২ নভেম্বর) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার দর ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে ১১১ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫৬ ডলার বা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ৫৬ ডলারে।

তবে মঙ্গলবার আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে ঘিরে সংঘাত আবারও বাড়তে পারে-এমন আশঙ্কায় অক্টোবরে ব্রেন্ট তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘গত সপ্তাহের শক্তিশালী উত্থানের পর আজ সকালে তেলের দামে প্রযুক্তিগত সংশোধন দেখা যাচ্ছে।’

তার মতে, কূটনৈতিক অগ্রগতির দীর্ঘস্থায়ী আশা এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাত না হওয়ায় আপাতত মূল্যস্ফীতির তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক রয়েছে বাজার। এতে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের দিকে যেতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রোববার জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতেই এই আলোচনা চলছে। তিনি একে ‘চলমান ও অগ্রগতিশীল’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তেহরান ‘প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি উভয়ের জন্যই’ প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা হচ্ছে। এসব হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও জাহাজ চলাচলের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে, তিনটি জাহাজ-ট্র্যাকিং কোম্পানির মধ্যে দুটি জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুথিদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা সত্ত্বেও অক্টোবরে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রফতানি বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে তুলনায় দেশটির রফতানি বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

অন্যদিকে, পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং রাশিয়াসহ তাদের মিত্র দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস রোববার ডিসেম্বরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আগামী বছরের আগে উৎপাদন নীতিতে আর কোনো পরিবর্তন না আসার প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে রফতানি ব্যাহত হওয়ায় জোটটি এখনো সেই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে।

ইউডি/কেএস

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!