মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

কাউকে কষ্ট না দেওয়াও কি একটি আমল?

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

কাউকে কষ্ট না দেওয়াও কি একটি আমল?

আমল বলতে আমরা সাধারণত নামাজ, রোজা, জিকির ও দান-সদকাকে বুঝি। কিন্তু হাদিসে অন্যকে নিজের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখাকে মুসলিমের পরিচয়ের বৈশিষ্ট্য এবং সদকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুসলিমের পরিচয়
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ১০)

আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোন মুসলিম সর্বোত্তম?’ রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, ‘যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ১১)

অনিষ্ট থেকে বিরত রাখা সদকা
আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কেউ যদি কোনো ভালো কাজ করতে অক্ষম হয়, তবে সে কী করবে? তিনি বললেন, ‘মানুষকে তোমার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখো। এটি তোমার নিজের জন্য সদকা।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৪)

অর্থাৎ মানুষের অনিষ্ট থেকে নিজেকে বিরত রাখাও সদকা।

ঈমানের সঙ্গে সম্পর্ক
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ৬০১৮)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) তিনবার বলেন, ‘আল্লাহর কসম, সে মুমিন নয়!’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে, হে আল্লাহর রাসুল?’ তিনি বললেন, ‘যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।’ (সহিহ বুখারি: ৬০১৬)

আসল দেউলিয়া
রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কি জানো দেউলিয়া কে?’ তাঁরা বললেন, ‘যার টাকাপয়সা ও সম্পদ নেই।’ তিনি বললেন, ‘আমার উম্মতের দেউলিয়া সে, যে কেয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে আসবে, কিন্তু কাউকে গালি দিয়েছে, কারও ওপর অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ ভোগ করেছে, কারও রক্ত ঝরিয়েছে, কাউকে মেরেছে। তখন তার নেক আমল থেকে তাদের পাওনা মেটানো হবে। পাওনা পরিশোধের আগে তার নেক আমল শেষ হয়ে গেলে তাদের গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫৮১)

কোরআনের সতর্কবাণী
আল্লাহ বলেন, ‘যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।’ (সুরা আহজাব: ৫৮)

সীমারেখা
কাউকে কষ্ট না দেওয়ার অর্থ সত্য বলা বা অন্যায়ের প্রতিবাদ ছেড়ে দেওয়া নয়। প্রয়োজনীয় সত্য ও ন্যায়ের কথা বলতে হবে। অন্যায় দেখলে তা প্রতিহত করাও দায়িত্বের অংশ। তবে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সংশোধন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা, অপমান বা প্রতিশোধ নয়।

ইউডি/কেএস
 

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!