প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেছেন, ইসলামী মূল্যবোধের প্রচার কীভাবে করতে হয়, তা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কাছ থেকে জামায়াতে ইসলামীকে শেখা উচিত।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর এলাকায় আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মো. রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এসেছি আমাদের সবার মুরুব্বি, তার কাছ থেকে দোয়া নেওয়ার জন্য এবং আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের জন্য তিনি দোয়া করেছেন। এখানে আসলে অন্য কোনো বিষয়ে আমি মন্তব্য করছি না। বিকেল ৫টায় সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় আছে, সেখানে রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমার সর্বশেষ কথা হলো যে, জাতীয় নির্বাচনের আগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শ্রদ্ধেয় আমির যেভাবে ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন বক্তব্য এবং বিশেষ করে যারা আসলে ইসলামকে পুঁজি করে, ইসলামী লেবাস ধরে যারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের ক্ষতি করছে, সেই বিষয়গুলো তিনি আসলে উন্মোচন করেছিলেন। যে কারণে যারা বিভ্রান্ত হচ্ছিল, তারাও কিন্তু অনেকটা সচেতন হয়।’
মো. রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এজন্য আমি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শ্রদ্ধেয় আমিরকে ধন্যবাদ জানাই যে, নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিতরণের নামে যেভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল, সেই বিভ্রান্ত যারা হচ্ছিল, তাদেরকে সচেতন করেছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শ্রদ্ধেয় আমির।’
তিনি বলেন, ‘এজন্য আমি বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি এখনো পর্যন্ত সেই ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা করে যাচ্ছেন, ইসলামের প্রচার ও প্রসারে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে মো. রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমি মনে করি, যারা ইসলামের কথা বলছে, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলাম, তাদেরকে আমি পরামর্শ দেবো যে, ইসলামী মূল্যবোধের প্রচার কিভাবে করতে হয়, সেটা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে আপনারা শেখেন।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা ইসলাম থেকে, ইসলামী মূল্যবোধ থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গিয়েছেন। এটি জামায়াতের কাছ থেকে দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে না।’
মো. রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘একদিকে আপনি ইসলামের কথা বলছেন, অন্যদিকে জামায়াতের সমস্ত কার্যক্রম এবং কথাবার্তা—এটা আসলে এক ধরনের ইসলামের সাথেই বিসাদৃশ্য। জামায়াত যেহেতু ইসলামিক রাজনীতি করে বলে দাবি করছে এবং শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামকে বলব, ইসলামী মূল্যবোধের কথা বলে ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা যে ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য মাঠে-ময়দানে রাখছেন, এটি নিয়ে জাতি বিভ্রান্ত হচ্ছে।’
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে মো. রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আজকেও কিন্তু আমাদের শ্রদ্ধেয় আমির যে কথা বললেন, যে এই সরকারকে সবার উচিত সহযোগিতা করা। সহযোগিতা না করে এই ৭ মাসের সরকারের বিরুদ্ধে কেন লং মার্চ? এই কথাটি আজকে আমরা যারা এসেছিলাম, তিনি সেই প্রশ্ন আমাদের কাছে করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ, সকলের দায়িত্ব, আমরা যারা একসাথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে ফ্যাসিবাদকে হটিয়েছিলাম, সবার দায়িত্ব সেই ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে একতাবদ্ধ থেকে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা।’
মো. রাশেদ খাঁন অভিযোগ করে বলেন, ‘কিন্তু এই মুহূর্তে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামের কোনো মনোযোগ নাই। জামায়াতে ইসলাম কিভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়, সেটা ইসলামকে পুঁজি করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, মুনাফিকি করে তারা সেই চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ তাদের সেই মুনাফিকি আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তারা জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে ইসলামের এক ধরনের কাণ্ডারি হিসেবে তারা কাজ করে যাচ্ছে।’
মো. রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এজন্য আমি শ্রদ্ধেয় আমির এবং হেফাজতের সকল নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই।’
ইউডি/রেজা


