মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রতিটি জেলা-উপজেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে সরকার

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

প্রতিটি জেলা-উপজেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে সরকার

অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন

দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে একটি করে প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ৮৫টি প্রতিবন্ধী স্কুল চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। শুধু স্কুল প্রতিষ্ঠা নয়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। এমন বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে এবং কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শুধু সুরক্ষার আওতায় আনা সরকারের লক্ষ্য নয়। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবারের অভিভাবকদের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, যেসব পরিবারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু রয়েছে, সেসব পরিবারের অভিভাবকরা অনেক সময় সন্তান লালন-পালনের কারণে স্বাভাবিক কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারেন না। এসব পিতা-মাতা যাতে ঘরে বসে বা উপযোগী পরিবেশে আয় করার সুযোগ পান এবং কর্মক্ষম থাকতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার সক্রিয়ভাবে চিন্তা করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতার হার বাড়ানোর পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানান। তাঁদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ৯২ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও মেধাবী শিক্ষার্থীর কাছে গিয়ে বিশেষ অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান (দুলাল)। এ ছাড়া পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউডি/রেজা

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!