মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

মাথা যন্ত্রণা মানেই কি মাইগ্রেন?

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম

মাথা যন্ত্রণা মানেই কি মাইগ্রেন?

মাথা যন্ত্রণা মানেই কি মাইগ্রেন? এই দুইয়ের তফাতটা না জেনেই মুঠো মুঠো পেইনকিলার খেয়ে ফেলেন অনেকে। তবে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, সাধারণ টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা আর স্নায়ুর জটিলতা মাইগ্রেন—দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

মাথাব্যথা হলো একটি সাধারণ উপসর্গ, আর মাইগ্রেন হলো মূলত স্নায়ুর একটি অসুখ। সাধারণ টেনশন-টাইপ মাথাব্যথায় মাথার দু’পাশেই চাপ ধরা বা ভোঁতা একটা যন্ত্রণা হতে পারে। অনেক সময় রোগী অনুভব করেন, কেউ যেন শক্ত করে মাথাটা কোনো কিছু দিয়ে বেঁধে রেখেছে।

অন্যদিকে, মাইগ্রেনের ব্যথা হয় সাধারণত স্পন্দনের মতো। যদিও এটি মাথার যেকোনো এক দিকে বেশি হয়, তবুও দুদিকে ব্যথা হওয়া অসম্ভব নয়। তবে মাথায় এক দিকে ব্যথা হচ্ছে মানেই চোখ বন্ধ করে সেটাকে মাইগ্রেন ভেবে নেওয়া ভুল।

কীভাবে বুঝবেন এটি মাইগ্রেন?
মাইগ্রেনের ব্যথার তীব্রতা মাঝারি থেকে শুরু করে প্রচণ্ড হতে পারে। বিশেষ করে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা বা সামান্য হাঁটাচলার মতো দৈনন্দিন কাজেও এই যন্ত্রণা বহুগুণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে বমি ভাব, বমি হওয়া এবং আলো বা সামান্য জোরে শব্দেও চরম অস্বস্তি হতে পারে। ব্যথার সময় শান্ত ও অন্ধকার ঘরে চুপচাপ শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করা মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

কতক্ষণ স্থায়ী হয় এই যন্ত্রণা?
সাধারণ মাথাব্যথা বড়জোর ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসা না করালে মাইগ্রেনের একেকটি অ্যাটাক টানা চার থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হতে পারে। এই ব্যথার তীব্রতাও সব সময় সমান থাকে না; কখনো বাড়ে, কখনো আবার কমে।

চোখে আলোর ঝলকানি বা অন্য লক্ষণ
মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হওয়ার আগে বা চলাকালীন অনেকের চোখেই অদ্ভুত সব পরিবর্তন দেখা দেয়। যেমন—চোখের সামনে আলোর ঝলকানি বা আঁকাবাঁকা রেখা দেখা যাওয়া, কিংবা দৃষ্টির কিছু অংশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়া। এমনকি কারও কারও হাত-পা ঝিনঝিন করা, অসাড় লাগা কিংবা কথা বলতে অসুবিধার মতো সমস্যাও হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, সবার মাইগ্রেনের লক্ষণ এক হয় না।

কখন সতর্ক হবেন এবং চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
বারবার মাথাব্যথা হলে কিংবা ব্যথা খুব তীব্র আকার ধারণ করলে কেবল ব্যথার ওষুধ খেয়ে তা এড়িয়ে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। ব্যথার ধরন হঠাৎ বদলে গেলে, দৈনন্দিন কাজে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হলে কিংবা অস্বাভাবিক তীব্র যন্ত্রণা শুরু হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে, জীবনে কখনো অনুভব করেননি এমন মারাত্মক মাথাব্যথার সঙ্গে যদি কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরে দুর্বলতা বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দেয়, তবে দ্রুত জরুরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

নিজের মতো করে রোগ নির্ণয় না করে ব্যথার ধরন ও উপসর্গগুলো খেয়াল রাখুন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।

ইউডি/কেএস
 

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!