মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

ডায়েটে অতিরিক্ত ফল খেয়ে উল্টো ওজন আরও বাড়াচ্ছেন না-তো?

উত্তরদক্ষিণ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

ডায়েটে অতিরিক্ত ফল খেয়ে উল্টো ওজন আরও বাড়াচ্ছেন না-তো?

কেউ যখন ডায়েট শুরু করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার খাবারের তালিকায় অনেক বেশি ফল যোগ হয়ে যায়। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, ফল খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানো ওজন কমানোর একটি নিশ্চিত উপায়। তবে ফল ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারে সমৃদ্ধ হলেও অতিরিক্ত ফল খাওয়া ওজন কমানোর লক্ষ্যের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে কিনা এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করেছেন। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পরিমাণে ফল খেলে তাত্ত্বিকভাবে ওজন বাড়তে পারে। ফল স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর ডায়েটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ এগুলো ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যতালিকাগত ফাইবার সরবরাহ করে। একই সঙ্গে এগুলো সাধারণত পুষ্টিতে সমৃদ্ধ এবং তুলনামূলকভাবে কম শক্তি বা ক্যালরি সরবরাহ করে। তবে যেকোনো ক্যালরিযুক্ত খাবারের মতোই অতিরিক্ত ফল খাওয়াও ওজন বাড়াতে পারে।

ফরিদাবাদের ফর্টিস এসকর্টস হাসপাতালের প্রধান ডায়েটিশিয়ান কিরণ দালাল বলেছেন, ফলে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। বিশেষ করে আম, কলা, আঙুর ও চিকুর মতো তুলনামূলকভাবে বেশি ক্যালরিযুক্ত ফল প্রচুর পরিমাণে খেলে মোট ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, সারাদিন ধরে বারবার ফল খাওয়া বা শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার মনে করে একবারে অনেক বেশি পরিমাণ ফল খাওয়া ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রতিদিন ২–৩ সার্ভিং গোটা ফল খাওয়া স্বাভাবিক। তবে এটি ব্যক্তির ক্যালরির চাহিদা, শারীরিক সক্রিয়তার মাত্রা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে।

ফল খাওয়ার সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন—
যেকোনো খাবারের মতো ফলের ক্ষেত্রেও পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি সুষম খাবারের প্লেট বেছে নিন, যেখানে বিভিন্ন খাদ্যগোষ্ঠীর খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে।

জুসের বদলে গোটা ফল খান
গোটা ফলে ফাইবার থাকে, যা হজমের গতি ধীর করতে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বেশি ফাইবার ও পানিযুক্ত ফলকে অগ্রাধিকার দিন
এ ধরনের ফলে তুলনামূলকভাবে কম ক্যালরিতে বেশি পরিমাণ খাবার পাওয়া যায়। ফলে পেট ভরা অনুভূতি পাওয়া সহজ হয়।

ফলের সঙ্গে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বি যোগ করুন
ফলের সঙ্গে প্রোটিনের উৎস বা স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খেলে পেট ভরা অনুভূতি আরও বাড়তে পারে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার মনে করে যখন তখন ফল খাওয়ার পরিবর্তে কখন এবং কতটা ফল খাচ্ছেন সে বিষয়ে সচেতন থাকুন। ফল নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে বিশেষ করে যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য পরিমিত পরিমাণে ফল খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ইউডি/কেএস

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

Advertisement
Link copied!