মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

ট্রাফিক বাতি কেন লাল, হলুদ ও সবুজ রঙের হয়?

UttorDokkhin

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ০২:০০ পিএম

ট্রাফিক বাতি কেন লাল, হলুদ ও সবুজ রঙের হয়?

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, আপডেট ১৪:০০

রাজধানীবাসীর কাছে ট্রাফিকজ্যাম জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বাসা থেকে বের হলেই জ্যামে বসে থাকতে হয়। তবে কখনও কি ট্রাফিক সিগন্যালে থাকা বাতিগুলোর দিকে খেয়াল করেছেন? কেন ট্রাফিক বাতি এই তিন রঙের হয়? আর কীভাবেই বা এই পদ্ধতি চালু হলো?

ট্রাফিক বাতির রঙ সাধারণত লাল, হলুদ ও সবুজ হয়। তবে ২০ শতকের শুরুর দিকে পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ভিন্ন। তখন বিশ্বের বড় বড় শহরে হঠাৎ করেই গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যায়। একই রাস্তায় ট্রেন, ট্রলি, ঘোড়ার গাড়ি, বাইসাইকেল ও পথচারীরা চলাচল করত। ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

সেই সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকতেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে হাতের ইশারায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাই আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর আগে সড়কের পরিস্থিতি ছিল বেশ বিশৃঙ্খল।

কেন লাল, হলুদ ও সবুজ রঙ ব্যবহার করা হয়
ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখি, লাল মানে বিপদ আর সবুজ মানে নিরাপদ বা চলতে পারো। তবে ট্রাফিক বাতির এই রঙগুলোর ব্যবহার গাড়ির যুগের আগের ধারণা থেকে এসেছে। ট্রাফিক সিগন্যালের ইতিহাস মূলত ট্রেনের সিগন্যাল ব্যবস্থা থেকে শুরু, যা আবার সেমাফোর নামের প্রাচীন যোগাযোগ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল।

লাল: লাল রঙ সর্বজনীনভাবে বিপদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাই ট্রাফিক সিগন্যালেও ‘থামো’ বোঝাতে লাল ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, লাল রঙ মানুষের শরীরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এটি হৃদস্পন্দন বাড়ায় এবং সতর্ক হওয়ার সংকেত দেয়। আগুন ও রক্তের সঙ্গেও লাল রঙের সম্পর্ক থাকায় এটি বিপদের প্রতীক হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত। এছাড়া লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় দূর থেকেও সহজে দেখা যায়।

সবুজ: সবুজ রঙ ব্যবহার করা হয় ‘চলো’ বা নিরাপদ চলাচলের সংকেত হিসেবে। শুরুতে ট্রেনের সিগন্যাল ব্যবস্থায় সবুজের পরিবর্তে সাদা আলো ব্যবহার করা হতো। কিন্তু সাদা আলো সহজেই অন্য আলোর সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হতো। পরে এর পরিবর্তে সবুজ রঙ চালু করা হয়। মানুষের চোখ সবুজ রঙ সহজে শনাক্ত করতে পারে, তাই দূর থেকেও এটি স্পষ্ট দেখা যায়।

হলুদ: হলুদ রঙ সতর্কবার্তা বোঝায়। এটি চালকদের জানিয়ে দেয় যে সিগন্যাল খুব শিগগিরই সবুজ থেকে লালে পরিবর্তিত হবে। হলুদ বাতি চালুর আগে চালকদের জন্য কোনো আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা ছিল না। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি ছিল। পরে নিরাপত্তা বাড়াতে হলুদ রঙ যুক্ত করা হয়।

তবে মজার ব্যপার হলো ট্রাফিক লাইটের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৮৬৮ সালে লন্ডনে প্রথম ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়। এটি তৈরি করেছিলেন রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার জেপি নাইট। তখন দিনে সেমাফোর এবং রাতে গ্যাস ল্যাম্প ব্যবহার করা হতো। তবে একটি বড় দুর্ঘটনার পর সেই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।

পরে ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাফিক লাইট তৈরি করেন পুলিশ কর্মকর্তা লেস্টার ওয়ার। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ১৯২৩ সালে গেরেট মরগান তিন রঙের স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক বাতির পেটেন্ট নেন, যা বর্তমান সিস্টেমের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইউডি/কেএস

Advertisement
Link copied!