melongazi
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২১, ০২:১০ পিএম
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১৪: ১০
বিভিন্ন ইস্যুতে আমেরিকা-চীনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন লেগেই আছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এ দুই মোড়লের প্রভাব অনেক। তাই এই দুই দেশের প্রতিটি পদক্ষেপকেই নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করে বিশ্ব মিডিয়া। তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের বিরোধে
সম্প্রতি আমেরিকা যেনো আরও এক পা এগিয়ে গেলো। অপরদিকে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আমেরিকাকে
চমকে দিয়েছে চীন। কিন্তু এলএনজি চুক্তি নিয়ে দু’দেশের আপোসের ইঙ্গিত মিলেছে। জ্বালানির সন্ধানে
আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারে চীন। বিস্তারিত মশিউর জারিফ-এর প্রতিবেদনে…
চীন-আমেরিকার সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে অন্যতম ইস্যু তাইওয়ান। তাইওয়ানকে নিজেদের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি প্রদেশ মনে করে চীন। অন্যদিকে তাইওয়ান দাবি করে আসছে তারা সার্বভৌম রাষ্ট্র। এক্ষেত্রে দেশটি নিজেদের পাশে পাচ্ছে আমেরিকাকে। ফল হিসেবে চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে দেশটি মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দ্রুত সরবরাহ করতে আমেরিকার প্রতি অনুরোধ করেছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি জাপান সাগরে যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছিল রাশিয়া ও চীন। এসময়ে রাশিয়ার জলসীমায় ঢুকে পড়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। পরে রাশিয়ার ডুবোজাহাজের দাপটে যুদ্ধজাহাজটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এমনটাই জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে মস্কোর দাবি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। এক্ষেত্রে চীনের সম্পৃক্ততা থাকায় মস্কোর এ দাবি উড়িয়ে দেয়ার নয় বলে মনে করেন আর্ন্তজাতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, চলতি বছরের আগস্টে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এমন একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় চীন, যা লক্ষ্যের দিকে দ্রুতবেগে ছুটে যাওয়ার আগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছিল। বেইজিংয়ের এমন অস্ত্র বানানোর সক্ষমতা পেন্টাগনকে রীতিমত চমকে দিয়েছিল। গত শনিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাঁচ জনের বরাত দিয়ে এ কথা জানায় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চীন সম্পৃক্ত প্রতিটি অঙ্গনে আমেরিকার প্রবেশ দেশ দুটির মধ্যকার টানাপোড়েন পরিষ্কার করে।
তবে, এসকল কিছু পাশ কাটিয়ে বাণিজ্য সূত্র ধরে আপোসের দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে দেশ দ’ুটির। রয়টার্স-এর প্রতিবেদন বলছে এলএনজি নিয়ে আমেরিকার রপ্তানিকারকদের সঙ্গে চীনা কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। ফলে দেশ দুটির মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি হতে পারে। জ্বালানি চাহিদা বুঝে চলতি বছরের শুরুতেই মার্কিন সরবরাহকদের সাথে আলোচনা শুরু করে চীন। বিগত কয়েক মাসে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা আলোচনায় নতুন গতি যোগ করে। এশিয়া ও ইউরোপে এখন চলছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ও শীতকালে ঘর উষ্ণ রাখার জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ঘাটতি। ফলে চলতি বছর এশিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের দর চড়েছে পাঁচগুণ হারে। এতে শীতকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্নতার ভয়ও সৃষ্টি হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, বিশ্ব বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের রকেটগতির মূল্য উলম্ফন আর স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বল্পতার কারণেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত চীন, আর সেজন্যই এমন চুক্তির প্রতি তাদের আগ্রহ। এক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি ক্রেতা হিসেবে চীনের অবস্থান আরো দৃঢ় হবে। ইতোমধ্যে চলতি বছরেই জাপানকে ছাড়িয়ে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে দেশটি।
প্রতিবেদন বলছে, আমেরিকার দু’টি বড় রপ্তানিকারক সংস্থা- চেনিয়ার এনার্জি ও গ্লোবাল ভেঞ্চারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে প্রায় পাঁচটি চীনা কোম্পানি। এদের মধ্যে রয়েছে- কেন্দ্রীয় সরকারের মালিকানাধীন সিনোপেক কর্প ও চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল কোম্পানি (সিএনওওসি) এবং স্থানীয় সরকারের আওতাধীন ঝেজিয়াং এনার্জির মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। আলোচনার ভিত্তিতে হাজার হাজার কোটি ডলার অঙ্কের বিশাল সব চুক্তি হতে পারে, যা আমেরিকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের এলএনজি আমদানি বিপুল পরিমাণে বাড়াবে।
এর আগে আমেরিকা-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের সবচেয়ে উত্তেজক সময় ২০১৯ সালে দুই দেশের গ্যাস বাণিজ্য প্রায় মুখ থুবড়ে পড়ে, তাই নতুন করে চীনে রপ্তানির জন্য এলএনজি অবকাঠামো গড়ে তুলতে মার্কিন রপ্তানিকারকদের বেশ কয়েক বছর সময়ও লাগবে। গত সপ্তাহে চেনিয়ারের সঙ্গে ১৩ বছর মেয়াদি চুক্তির ঘোষণা করে চীনের বেসরকারি কোম্পানি ইএনএন ন্যাচারাল গ্যাস কো., চুক্তির আলোচনায় নেতৃত্ব দেন সিএনওওসির সাবেক এলএনজি শাখার প্রধান। তাই আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বড় আঙ্গিকে গ্যাস ক্রয় চুক্তির ঘোষণা আসবে বলে সূত্রগুলি আশা প্রকাশ করেছে।
তাছাড়া, ২০১৮ সালের পর এটিই ছিল আমেরিকা ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রথম এলএনজি চুক্তি। চুক্তিগুলোর ফলে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি ক্রেতা হিসেবে চীনের অবস্থান আরো দৃঢ় হবে। চলতি বছরেই জাপানকে এদিক থেকে ছাড়িয়ে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে চীন।